Taliban US Relations: আমেরিকার ‘বন্ধু’ হতে চায় আফগানিস্তানের তালিবান সরকার, জেনেই পাকিস্তান যা করল…
Taliban Seeks US Partnership: আশরফ গনির আমলে আফগান সরকারের ৭০০ কোটি ডলার মার্কিন ব্যাঙ্কে জমা হয়। সেই টাকা এখন ফ্রিজ করে দিয়েছে আমেরিকা। স্যাংশন উঠে গেলে সেটা তালিবান ফেরত পেতে পারে। তাই, মুত্তাকি দেশের এক লক্ষ কোটি ডলারের খনিজ সম্পদের ইজারা আমেরিকাকে দিতে আগ্রহী।

কাবুল: রাজনীতিতে যেমন কেউ কারও চিরকালের বন্ধু বা শত্রু হয় না, বিদেশ নীতিতেও ঠিক তেমনই ব্যাপার। যেমন শত্রুতা ভুলে আজ আমেরিকা-জাপান, আমেরিকা-ভিয়েতনাম বন্ধু। আবার বিপ্লবের আগে বন্ধু থাকলেও কিউবা ও ইরান দুই দেশই আজ আমেরিকার শত্রু। হঠাৎ কেন এই প্রসঙ্গ? কারণ, ফিনান্সিয়াল টাইমসের একটি প্রতিবেদন বলছে, আমেরিকাকে শত্রুতা ভুলে বন্ধু হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তালিবান।
হিন্দুকুশের কোলে আফগানিস্তান হল খনিজ সম্পদের ভান্ডার। তামা, লোহা, সোনা, কোবাল্ট, লিথিয়াম- কী নেই। কিন্তু, এসব মাটির নীচেই পড়ে আছে। তোলার কেউ নেই। একে তো যুদ্ধের কারণে খনিজ সম্পদ উত্তোলন করা যায়নি। আর দুই, তালিবানের হাতে প্রযুক্তিও নেই। তাই তালিবানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করতে চাইছেন। ঠিকই পড়ছেন। আফগানিস্তানের মাটি থেকে খনিজ তোলার জন্য আমেরিকাকে খোলাখুলি প্রস্তাব দিয়েছেন তালিবানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সহজ ডিল। তোমরা এসে খনিজ তুলে নিয়ে যাও। বিনিময়ে আমাদের ডলার দাও আর স্যাংশন তুলে নাও।
আশরফ গনির আমলে আফগান সরকারের ৭০০ কোটি ডলার মার্কিন ব্যাঙ্কে জমা হয়। সেই টাকা এখন ফ্রিজ করে দিয়েছে আমেরিকা। স্যাংশন উঠে গেলে সেটা তালিবান ফেরত পেতে পারে। তাই, মুত্তাকি দেশের এক লক্ষ কোটি ডলারের খনিজ সম্পদের ইজারা আমেরিকাকে দিতে আগ্রহী।
এই মুহূর্তে আফগানিস্তানের খনি শিল্পে অল্প কিছু চিনা ও ইরানি বিনিয়োগ রয়েছে। তবে তাতে সব খনিজ উঠছে না। কাবুল চাইছে আমেরিকা আসুক। মাটির নীচে যা যা আছে সবকিছু উঠে আসুক। শুধু তাই নয়। কাবুলে আবার মার্কিন দূতাবাস খোলারও প্রস্তাব দিয়েছেন মুত্তাকি। বলেছেন, আপনাদের জায়গা আমরা দখল করিনি। বরং আশপাশে পথঘাট ঠিক করেছি। সবকিছু সারিয়েছি, গাছ লাগিয়েছি। এসে দেখে যান মার্কিন দূতাবাসের বাড়িটা এখন কত সুন্দর লাগছে। আপনারা শুধু এসে চেয়ার টেবিল পেতে বসে পড়ুন। ওয়াশিংটন এখনও কিছু জানায়নি। তবে, ব্যাপারটা নিশ্চিতভাবেই সহ্য হয়নি পাকিস্তানের। কারণ, শরিফ-মুনিররা চান উপ-মহাদেশে আমেরিকার প্রসাদ শুধু তাঁরাই পাবেন। তাই ক’মাস বন্ধ থাকার পর ফের আফগানিস্তানে হামলা শুরু করে দিয়েছে পাকিস্তান।
