AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Homi J Bhaba Death Mystery: মার্কিন বিজ্ঞানীদের রহস্যমৃত্যু মনে করাচ্ছে ডঃ হোমি ভাবাকে, ঠিক কী হয়েছিল?

Homi J Bhaba Death Mystery: সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকাতেই একের পর এক বিজ্ঞানীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে। কারও দেহ মিলেছে, কেউ আবার হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। এই ঘটনাগুলি ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরেও তোলপাড় শুরু হয়েছে।

Homi J Bhaba Death Mystery: মার্কিন বিজ্ঞানীদের রহস্যমৃত্যু মনে করাচ্ছে ডঃ হোমি ভাবাকে, ঠিক কী হয়েছিল?
| Edited By: | Updated on: May 02, 2026 | 9:58 PM
Share

প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর ধাক্কা তখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশ। দিল্লির পাওয়ার করিডরে তখন ফিসফাস, সাধারণ মানুষের মনেও ছিল সন্দেহ,সুস্থ-সবল একজন মানুষ হঠাৎ এভাবে মারা গেলেন কী করে? সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। শাস্ত্রীর মৃত্যুর মাত্র ১৩ দিন পর ফের আসে আরও একটি দুঃসংবাদ। ফ্রান্সে ভারতের রাষ্ট্রদূত দিল্লিতে টেলিগ্রাম করে জানান—“ডঃ ভাবা ইজ নো মোর”।

১৯৬৬ সালের ২৪ জানুয়ারি সকাল ৭টা। আল্পসের মঁ ব্লা পর্বতে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ১০১। বম্বে থেকে নিউইয়র্কগামী সেই বিমানের ১১৭ জন যাত্রীর কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা যায়নি। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন ভারতের পরমাণু কর্মসূচির প্রধান মুখ, বিজ্ঞানী ডঃ হোমি জাহাঙ্গির ভাবা। তখনও ভারত পরমাণু শক্তিধর দেশ নয়। সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে, আর দেশের পরমাণু প্রকল্পের দায়িত্ব ছিল হোমি ভাবার হাতে। ১৯৬৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে ভাবা দাবি করেছিলেন, সরকার অনুমতি দিলে ভারত মাত্র ১৮ মাসের মধ্যেই পরমাণু বোমা তৈরি করতে পারে।অভিযোগ, এর অনেক আগেই ভাবাকে খুনের ছক কষেছিল বিশ্বের তিন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা। আর এই কাজে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। বিমান দুর্ঘটনায় ভাবার মৃত্যুর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, এটি কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে ছিল CIA?

প্রশ্ন ছিল, সংশয়ও ছিল, কিন্তু প্রমাণ ছিল না। সেই প্রমাণ সামনে আসে ২০০৮ সালে। সে সময় আমেরিকার এক পরমাণু বিজ্ঞানীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলছিলেন CIA-র অবসরপ্রাপ্ত জয়েন্ট ডিরেক্টর রবার্ট ক্রাওলি। কথোপকথনের সময় তিনি স্বীকার করেন, একাধিকবার ভাবাকে খুনের চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। এরপর ভাবার বিমানে বোমা রেখে বিমান উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

এই কথোপকথনের রেকর্ড পরে টিবিআরনিউজের হাতে আসে এবং তারা তা প্রকাশ করে। সেখানে ক্রাওলি বলেছিলেন, “ষাটের দশকে ভারতকে নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা বাড়ছিল। ভারত-সোভিয়েত রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আমরা চিন্তায় ছিলাম। ওই লোকটা, মানে হোমি ভাবা, পরমাণু বোমা তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কোনও একটা ডিল করতে ভিয়েনায় যাচ্ছিল। আমরা ওকে আটকাতে এমন একটা সিদ্ধান্ত নিই, যা অনেকগুলো মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল।” ক্রাওলি আরও জানান, ভারতের আরও তিন বিজ্ঞানীর উপর সেই সময় নজরদারি চালাত সিআইএ। আশ্চর্যের বিষয়, এই তিন জনের মধ্যে দু’জনও রহস্যজনকভাবে মারা যান। আর একজন দেশ ছেড়ে ইতালি চলে যান।

শুধু রাজনীতিক নয়, বিজ্ঞানী, কূটনীতিক থেকে ব্যবসায়ী…অনেকেই ছিল সিআইএ-র হিটলিস্টে। অভিযোগ, মার্কিন প্রশাসনের নির্দেশেই একের পর এক গোপন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এই সংস্থা। আরও অদ্ভুত বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকাতেই একের পর এক বিজ্ঞানীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে। কারও দেহ মিলেছে, কেউ আবার হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। এই ঘটনাগুলি ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরেও তোলপাড় শুরু হয়েছে।

Follow Us