China: আমেরিকাকে পরমাণু বোমার গোপন নথি বিক্রি, অভিযুক্ত শীর্ষ চিনা সেনাকর্তা

চিনের পরমাণু অস্ত্র প্রকল্পের তদারকি যে সরকারি এজেন্সি করে, সেই এজেন্সির একজন শীর্ষকর্তা এই ঝ্যাং। ওই এজেন্সি-ই লালচিনের পরমাণু বোমার রিসার্চ, ডেভলপমেন্ট ও প্রোকিওরমেন্টের কাজ করে থাকে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি, এজেন্সিতে নিজের পদাধিকারকে কাজে লাগিয়ে মোটা ডলারের বিনিময়ে ঝ্যাং সব গোপন তথ্য ওয়াশিংটনে পাচার করেছেন। সেই টাকা আবার নিজের পদোন্নতিতে 'ঘুষ' দেওয়ার কাজেও ব্যবহার করছিলেন।

China: আমেরিকাকে পরমাণু বোমার গোপন নথি বিক্রি, অভিযুক্ত শীর্ষ চিনা সেনাকর্তা

| Edited By: তন্নিষ্ঠা ভাণ্ডারী

Jan 27, 2026 | 7:34 PM

চিনা সেনার অন্দরে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়! কিন্তু সম্প্রতি এত বড় বিতর্ক চিন জুড়ে কখনও তৈরি হয়নি। বিতর্কের সূত্রপাত চিনা সেনার পরমাণু বোমার ‘টপ সিক্রেট’ বা অত্যন্ত গোপনীয় নথি সংক্রান্ত। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশ, একজন শীর্ষ চিনা সেনাকর্তা গোপনে সেই ‘টপ সিক্রেট’ ফাইলস আমেরিকাকে পাচার করেছেন। ফলে চিনের পরমাণু বোমা তৈরির যাবতীয় কার্যকলাপ নাকি ফাঁস হয়ে গেছে ওয়াশিংটনের কাছে।

৭৫ বছরের চিনা সেনা জেনারেল ঝ্যাং ইউঝিয়া চিনা সেনার সর্বোচ্চ সংগঠন সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চিনের পরমাণু অস্ত্র সংক্রান্ত ‘কোর টেকনিক্যাল ডেটা’ পাচার করেছেন আমেরিকাকে। শুধু তাই নয়, জেনারেল থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ পেতে গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপদস্থ সেনা কর্তাদের যথেচ্ছা ঘুষ দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঝ্যাং একদা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ছায়াসঙ্গীও। তাঁর মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে এহেন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বেজিং ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই তদন্ত নাকি নামেই, লোকদেখানো। আসলে নাকি ঝ্যাং-কে ফাঁসি দেওয়ার প্ল্যান তৈরি।

চিনের পরমাণু অস্ত্র প্রকল্পের তদারকি যে সরকারি এজেন্সি করে, সেই এজেন্সির একজন শীর্ষকর্তা এই ঝ্যাং। ওই এজেন্সি-ই লালচিনের পরমাণু বোমার রিসার্চ, ডেভলপমেন্ট ও প্রোকিওরমেন্টের কাজ করে থাকে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি, এজেন্সিতে নিজের পদাধিকারকে কাজে লাগিয়ে মোটা ডলারের বিনিময়ে ঝ্যাং সব গোপন তথ্য ওয়াশিংটনে পাচার করেছেন। সেই টাকা আবার নিজের পদোন্নতিতে ‘ঘুষ’ দেওয়ার কাজেও ব্যবহার করছিলেন। চিনা প্রতিরক্ষামন্ত্রক বা চিনা দূতাবাস এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিবিসি-র দাবি, ঝ্যাং-কে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন থেকে ইতিমধ্যেই বহিষ্কার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সাত সদস্য বিশিষ্ট মিলিটারি কমিশনে এখন নাকি মাত্র ২ জন সদস্যই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। বাকি সদস্যদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি-সহ একগুচ্ছ অভিযোগ ওঠায় তাঁদেরও আপাতত দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।

সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের আরেক সদস্য লিউ ঝেনলি-র বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে বেজিং। তাঁর বিরুদ্ধেও বেআইনি কাজ ও কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। এই জোড়া শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ চিনের শীর্ষ সেনামহলে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে। এই প্রথম সে দেশে শি জিনপিংয়ের সঙ্গীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হল। ঝ্যাং ও লিউ দুজনেই শীর্ষ চিনা জেনারেল। সত্তর ও আশির দশকে দুজনেই ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ময়দানে ছিলেন। চিনা সেনার প্রশিক্ষণ, অপারেশন ও ইন্টেলিজেন্সের দায়িত্বে থাকা পিপলস লিবারেশন আর্মি-র জয়েন্ট স্টাফ ডিপার্টমেন্টের প্রধান ৬১ বছরের লিউ।

গত ২ বছর ধরে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দেশ জুড়ে সেনাবাহিনীর অন্দরে ঘুঘুর ভাঙতে লাগাতার অভিযান শুরু হয়েছে। ওই অভিযানেরই ফলস্বরূপ এই দুর্নীতির পর্দাফাঁস হয়েছে বলে দাবি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের। ১৯৮০-তে গঠিত সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন চিনা সেনার সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। লক্ষ লক্ষ সেনাকে নিয়ন্ত্রণ করে এই কমিশন। সেই কমিশনেরই এখন সদস্য সংখ্যা দুইয়ে এসে ঠেকায় আপাতত চিনা সেনার তাইওয়ান জয়ের ইচ্ছা হিমঘরে বলেই পর্যবেক্ষণ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের।