
সত্যজিৎ রায়ের প্রফেসর শঙ্কুর কাছে ‘অ্যানাইহিলিন’ বলে একটি পিস্তল ছিল। যা থেকে একবার গুলি ছুঁড়লে যে কোনও বস্তু বা প্রাণীকে নিমেষে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া যেত। ভ্যানিশ হয়ে যেত টার্গেট। কল্পবিজ্ঞানের সেই অস্ত্রই কি এবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে? ট্রাম্পের নয়া দাবিতে বিশ্বজুড়ে অস্ত্র কারবারিদের মধ্যে জল্পনা!
গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আচমকাই অভিযান চালায় মার্কিন সেনার স্পেশ্যাল ফোর্স। মাত্র কয়েক মিনিটের অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর রণতরী ও হেলিকপ্টারে চাপিয়ে নিয়ে আসা হয় আমেরিকাতে। ওই অভিযানে স্পেশ্যাল ফোর্স এমন এক অস্ত্র ব্যবহার করে, যার কথা আগে কখনও শোনা যায়নি। এই চূড়ান্ত গোপনীয় অস্ত্র নিয়ে এই প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই অস্ত্রকে – Discombobulator বলে উল্লেখ করেন। সঙ্গে যোগ করেন, ‘এর চেয়ে বেশি কিছু আমি বলতে পারব না।’
ট্রাম্পের টেলিফোন
টেলিফোনে ট্রাম্পের দাবি, এই রহস্যময় মার্কিন অস্ত্রের জন্যই নাকি ভেনেজুয়েলার সেনার যাবতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মুখ খুবড়ে পড়ে। শত্রুর কোনও অস্ত্র সেই সময় কাজই করেনি। একজন মার্কিন সেনাও সামান্য আহতটুকু হননি। নিখুঁত অপারেশন চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে হেলিকপ্টারে তোলা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আমেরিকাতে ড্রাগ পাচার করে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ করেন ট্রাম্প। ওভাল অফিস থেকে টেলিফোনে একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এই নতুন অস্ত্র নিয়ে আমি বেশি কিছু বলব না। যদিও বলতে আমার খুব ইচ্ছা করছে।’ তবে এই অস্ত্র যে ৩ জানুয়ারির অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে সেটা স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের কথা মোতাবেক, এই অস্ত্রের জন্য ভেনেজুয়েলার কাছে থাকা রুশ ও চিনা রকেট উড়তেই পারেনি। মার্কিন সেনা আসছে বুঝতে পেরে বারবার বোতাম টিপেও কোনও অস্ত্রই নাকি চালু করতে পারেনি কারাকাস সেনা। ৬৩ বছরের মাদুরো এখন ব্রুকলিনের ফেডারেল জেলে বন্দি। ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ এখন ভেনেজুয়েলার দায়িত্বভার সামলাচ্ছেন।
ট্রাম্প খুব পরিষ্কার করে এই নয়া অস্ত্র নিয়ে মুখ না খুললেও বিষেশজ্ঞদের একটা অংশের দাবি, এই নয়া মারণাস্ত্র কেনা হয় প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমলে। এই অস্ত্র থেকে এক ধরণের ‘পালস এনার্জি’বেরোয়। একবার ছুঁড়লে উলটোদিকে থাকা দুশমন ভূপতিত হয়। তাদের নাক থেকে রক্ত বেরোতে থাকে। অভিযানের সময় মার্কিন স্পেশ্যাল ফোর্স এই অস্ত্র প্রয়োগ করায় কারাকাসের সেনা রক্তবমি করতে থাকে বলেও মার্কিন মিডিয়ার একটা অংশের দাবি। ভেনেজুয়েলার সেনার একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘আচমকাই প্রেসিডেন্ট মাদুরোর প্রাসাদের আশেপাশের সমস্ত রেডার সিস্টেম বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণ জানা যায়নি। তারপর আমরা আকাশে শয়ে শয়ে ড্রোন দেখতে পাই। আমরা কী করব সেই পরিস্থিতিতে বুঝে ওঠার আগেই মার্কিন সেনা হেলিকপ্টার থেকে নেমে এসে এলোপাথাড়ি কী একটা চালাতে থাকে। আমাদের কানে তালা লেগে যায়। সেই মুহূর্তের অভিজ্ঞতা বলে বোঝাতে পারব না। একটা তীব্র আওয়াজে আমাদের চারদিকে যেন ধাঁধা লেগে যায়। তীব্র আওয়াজে কান, নাক থেকে রক্ত বেরোতে থাকে।’ মাদুরোর সেনা ৩ জানুয়ারি যে মার্কিন অস্ত্রে ঘায়েল হয়, সেটাকেই আজ ট্রাম্প Discombobulator বলে উল্লেখ করেছেন বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।