Trump-Netanyahu:’আমিই সব সিদ্ধান্ত নিই…নেতানিয়াহু-র কাছে কোনও বিকল্প নেই’, কড়া বার্তা ট্রাম্পের
Trump warns Netanyahu: সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। অ্যাক্সিওসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ফোনে জানান, "আমরা একটি ভালো চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি।"

ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে সঙ্গে চুক্তিতে সায় নেই ইজ়রায়েলের (Iran-Israel)। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) বারবার বলতে শোনা গিয়েছে, ইরান ও আমেরিকার (Iran-US) মধ্যে চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন তাঁরা। তবে, এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বন্ধুত্বের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে বলা চলে। যদিও, ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ইজরায়েলের সম্মতির প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন ট্রাম্প। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটন যে চুক্তিই করুক না কেন, তা মেনে নেওয়া ছাড়া নেতানিয়াহুর কাছে কোনও বিকল্প নেই।
নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের
প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তাও দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেন, “ওর (নেতানিয়াহুর) কোনও বিকল্প নেই। সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই। আমিই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ করি। নেতানিয়াহু সিদ্ধান্ত নেয় না।” উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরান সম্প্রতি ইজরায়েলের উপর একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সেই ঘটনার পরই ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহুকে সংযত থাকার পরামর্শ
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। অ্যাক্সিওসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ফোনে জানান, “আমরা একটি ভালো চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি।” যদিও প্রথমে আপত্তি জানিয়েছিলেন নেতানিয়াহু, পরে তিনি পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপাতত সংযত থাকার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরান নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাঁর কূটনৈতিক অবস্থান বদলাবে না। তিনি বলেন, “এই হামলার কোনও প্রভাব চুক্তির উপর পড়বে না।” তবে অতীতের তুলনায় এবার ট্রাম্পকে কিছুটা সতর্ক শোনায়। তিনি বলেন, “চুক্তি এগোচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখা যাক।”
চুক্তি ভেস্তে গেলে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত
ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে কী হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, আমরা সামরিকভাবে বাকি কাজটুকু সম্পূর্ণ করতে পারি। দ্বিতীয়ত, ইরানের উপর অবরোধ আরও কঠোর করা হতে পারে। আমার মতে, এই অবরোধ যে কোনও সামরিক হামলার থেকেও বেশি কার্যকর হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি উত্তপ্ত ফোনালাপ নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কথোপকথন চলাকালীন ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেন। যদিও সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, ফোনে কথা হয়েছিল এবং সেই কথোপকথনের বর্ণনাকে সরাসরি অস্বীকারও করেননি।
