
ওয়াশিংটন: মর্জির মালিক তিনি। যখন ইচ্ছা হয়, শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেন। আবার গোঁসা হলে নিষেধাজ্ঞাও চাপান। এবার ভেনেজ়ুয়েলায় অভিযান চালিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীকেই কার্যত অপহরণ করে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘোষণা করেছেন, আমেরিকাই ভেনেজ়ুয়েলাকে চালাবে। এরপরই শোরগোল। বিতর্ক শুরু হতেই ময়দানে নামলেন স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও। সাফাই দিয়ে জানালেন, ওয়াশিংটন কোনও প্রশাসনিক ভূমিকা পালন করবে না।
গত সপ্তাহেই অপারেশন ‘অ্যাবসলিউট রিসলভ’ (Operation Absolute Resolve) চালিয়ে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করে এনেছে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট-হীন দেশ চলবে কী করে? উত্তরে ট্রাম্প সাংবাদিকদে বলেছেন যে আমেরিকাই আপাতত ভেনেজ়ুয়েলাকে চালাবে।
তবে আমেরিকার এই কাজ ভাল চোখে দেখেনি ভারত, রাশিয়া সহ একাধিক দেশই। বিতর্ক যাতে আর না বাড়ে, তার জন্য সাফাই দিয়ে মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি বললেন, সরাসরি ভেনেজ়ুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে না আমেরিকা। বরং আমেরিকা ভেনেজ়ুয়েলার তেলের ট্যাঙ্কারের উপরে আরও নিষেধাজ্ঞা এবং বাজেয়াপ্ত করবে। এইভাবেই চাপ সৃষ্টি করে কারাকাসের নীতি নির্ধারকদের বদল করা হবে। মাদক পাচারও রুখবে এই পন্থায়, দাবি রুবিওর।
ইতিমধ্যেই ভেনেজ়ুয়েলার একাধিক তেলের ট্যাঙ্কার বাজেয়াপ্ত করেছে আমেরিকা। যতক্ষণ না ভেনেজ়ুয়েলায় পরিবর্তন দেখছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ট্যাঙ্কার আটকে রাখা হবে বলেই জানিয়েছেন মার্কো রুবিও।
তবে একেবারেই যে ভেনেজ়ুয়েলার শাসনভার সে দেশের সরকারের উপরে ছেড়ে দিচ্ছে আমেরিকা, এমনটাও নয়। রুবিও জানিয়েছেন, যারা এখন ভেনেজ়ুয়েলা চালাবেন, তাদের পর্যালোচনা করবে আমেরিকা। কী করছে তারা, সবটা দেখা হবে, তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভেনেজ়ুয়েলার রাস্তায় যে মার্কিন সেনা দেখা যাবে না, সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি রুবিও।
এদিকে আজ, সোমবার ম্যানহাটনের ফেডেরাল কোর্টে প্রথমবারের মতো পেশ করা হবে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি, দুর্নীতিগ্রস্থ সরকার চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা পুরোটাই মাদক পাচারের উপর নির্ভর করে চলছে। প্রেসিডেন্ট মাদুরো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পান কি না, তাই-ই দেখার।