
ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইচ্ছা হয়েছে, তিনি গ্রিনল্যান্ড কিনবেন। তবে গ্রিনল্যান্ড স্বশাসিত আস্ত একটি দ্বীপ! চাইলেই তো আর কেউ নিতে পারে না। স্বাভাবিকভাবেই তারা আপত্তি জানিয়েছে। পাশাপাশি ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ব্রিটেন সহ একাধিক ইউরোপিয়ান দেশও রাজি নয় ট্রাম্পের এই অবাস্তব দাবিতে। ব্যস, রেগে কাঁই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই সমস্ত দেশের উপরে ছুড়ে দিলেন তাঁর প্রিয় অস্ত্র, ট্যারিফ!
শনিবার, ১৭ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করলেন যে ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ব্রিটেন, নরওয়ে, জার্মানি, সুইডেন, নেদারল্যান্ড, ফিনল্যান্ডের উপরে ১০ শতাংশ করে শুল্ক বা ট্যারিফ বসানো হচ্ছে। এই সমস্ত দেশ থেকে যা পণ্য আমদানি হয়, তার উপরে এই শুল্ক বসবে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে।
১০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েই তিনি থামছেন না। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনও চুক্তি না হলে, ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করে দেওয়া হবে।
ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকা বহু বছর ধরে ইউরোপের দেশগুলিকে বিভিন্ন ছাড়, ভর্তুকি দিয়ে আসছে। এবার সময় এসেছে ডেনমার্কের সেই উপকার ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ বিশ্বের শান্তি নাকি বিপন্ন! বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা ফেরাতেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ চাইছেন। যেহেতু এই প্রস্তাবে ইউরোপের দেশগুলি রাজি হয়নি, তাই এদের উপরে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ করে শুল্ক বসানো হবে।
প্রসঙ্গত, যে সমস্ত দেশের উপরে শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প, প্রতিটি দেশই আমেরিকার বন্ধু রাষ্ট্র। মাত্র একদিন আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন যে গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবে যদি সমর্থন না করা হয়, সেই সব দেশের উপরে শুল্ক বসাবেন। সেই মতোই শনিবার শুল্কের ঘোষণা করে দিলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের দাবি, চিন ও রাশিয়া গ্রিনল্যান্ড চাইছে। তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও সুরক্ষা রক্ষা করতেই গ্রিনল্যান্ডের উপরে অধিকার দাবি করেছেন কারণ ডেনমার্ক নিজের সীমানা রক্ষা করতে অক্ষম। তিনি আরও বলেছেন যে বিগত ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকা ডেনমার্ককে অধিগ্রহণ করতে চেয়েছে। একাধিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই ডেনমার্ক সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল।