
ওয়াশিংটন : ইরানের উপর হামলা করবে না আমেরিকা। জানিয়ে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাহলে কি অবশেষে যুদ্ধের সমাপ্তি? না, সেরকমটা একেবারেই ঘটছে না। সংঘাত জারি থাকবে। তবে, ইরানের উপর হামলার ঝাঁঝ কমাবে আমেরিকা। সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি ইরানের সঙ্গে আমেরিকার খুব ভাল আলোচনা হয়েছে। যদিও ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আমেরিকার সঙ্গে তাদের কোনও কথা হয়নি। যুদ্ধ এখনও জারি থাকবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দু’টি পোস্ট করেন। সেখানেই ইরানের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনার বিষয়টি জানান। তিনি লেখেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত দুই দিন ধরে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে ভাল এবং ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে।” তারপরই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, আগামী পাঁচ দিন ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে কোনও হামলা চালানো হবে না। অর্থাৎ ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই যুদ্ধবিরতি সাময়িক। যদি, এরপর ফলপ্রসূ কথাবার্তা না হয়, বা তেহরান হামলা চালায়, তাহলে আমেরিকা কড়া পদক্ষেপ করবে।
প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ় না বন্ধ করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। সেই ট্রাম্পই দুই দিনের মধ্যে সুর নরম করে সেই ডেডলাইন বাড়ালেন ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করলেন। আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বেশ চাপেই রয়েছেন ট্রাম্প।
তবে তেহরান স্পষ্টভাবে ট্রাম্পের দাবিকে খারিজ করে দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনা হয়নি। তাদের দাবি, এই ধরনের খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইরানের অভিযোগ, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল বর্তমানে যে জটিল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতেই এই ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি তেহরানের আরও দাবি, এই ভুয়ো তথ্য ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজার এবং তেলের বাজারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আমেরিকার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অনেকটা কমে যায়।
এদিকে, যুদ্ধ বন্ধের কোনও ইঙ্গিত দেয়নি তেহরান। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত থামার কোনও সম্ভাবনা নেই। তেহরানের শর্ত, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং যুদ্ধের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ওয়াশিংটনকে। যতদিন না পর্যন্ত তাদের শর্ত মানছে আমেরিকা, ততদিন পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।