
ওয়াশিংটন: বিদ্রোহের আগুনে জ্বলছে ইরান। আমেরিকায় বসে হামলার হুমকি দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। দিনের পর দিন এই হুমকি, সতর্কবার্তা দেওয়ার পর অবশেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই ঘোষণা করলেন যে ইরানে (Iran) সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীদের হত্যা করা বন্ধ হয়েছে।
গতকাল, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ইরানে ফাঁসি দেওয়ার কথা ছিল ২৬ বছরের যুবক এরফান সলতানিকে। তাঁর অপরাধ? সরকারের বিরুদ্ধে গলা চড়িয়েছেন, প্রতিবাদ করেছেন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খোমেইনির বিরুদ্ধে। তবে নরওয়ের একটি মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে খবর, চাপে পড়ে ইরান প্রশাসন বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে।
নির্বিচারে মারধোর, গুলি করে হত্য়া করা হচ্ছিল ইরানের আন্দোলনকারীদের। ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা ২৬০০ পার করেছে। ট্রাম্পের দাবি, সেই হত্যালীলা থামিয়েছে ইরান। বুধবার ট্রাম্প বলেন, “এখনই খবর পেলাম, হত্যালীলা বন্ধ করা হয়েছে। আর হত্য়া করা হবে না। বিগত কয়েকদিন ধরে সকলে এই বিষয় নিয়েই কথা বলছিলেন।”
আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাহলে ইরানে আন্দোলনকারীদের হত্যা থামানো হয়েছে, এই খবর ট্রাম্প পেলেন কী করে? এই প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন যে ওই প্রান্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকেই তিনি এই খবর পেয়েছেন। কে বা কী সেই সূত্র, তা ফাঁস করেননি ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “এখন আমরা অপেক্ষা করব আর দেখব যে কী হয়। হোয়াইট হাউস ইরান থেকে ভাল বার্তাই পেয়েছে।”
অন্যদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাহচিও জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই তেহরানের। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ফাঁসিতে ঝোলানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। এই ধরনের শাস্তির কোনও প্রশ্নই আসে না।“