
হাতে বড়জোর আর দু’ হপ্তা। তার মধ্যে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণের গবেষণা না থামালে সরাসরি হামলার নির্দেশ দেবেন ট্রাম্প। সপুত্রক খামেনেই-কে নিকেশের পরিকল্পনা রেডি পেন্টাগনের।
ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে ইরান পরমাণু গবেষণা না থামালে, তেহরানে অভিযান চালাবে মার্কিন সেনা। হোয়াইট হাউসের দুই শীর্ষ কর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষা করছে স্পেশ্যাল ফোর্স। ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-কে সপুত্রক নিকেশের নির্দেশ সেনার কাছে রয়েছে। ইরান যদি ট্রাম্পের মন রাখার মতো চুক্তি নিয়ে আলোচনার টেবিলে না বসতে পারে, তাহলে সেনা তৈরিই রয়েছে। সেনার অন্যতম টার্গেট হবে, আয়াতোল্লা খামেনেই ও তাঁর চার পুত্র সন্তান। প্রয়োজনে ইরানের সরকার পাল্টানো-র পরিকল্পনাও তৈরি। বল এখন ইরানের কোর্টে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেই দিয়েছেন, ইরানকে এখনই পরমাণু সংক্রান্ত সব গবেষণা বন্ধ করতে হবে। নইলে আগামী সপ্তাহের শেষেই ইরানের পরমাণু গবেষণা ঘাঁটি, অস্ত্রাগার ও সেনা পরিকাঠামোকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। রেহাই পাবে না খামেনেই, তাঁর সন্তান ও সেনাপ্রধানরাও। ৮৬ বছরের খামেনেইয়ের চার পুত্র-ই সাধারণভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকেন। কিন্তু অত্যাচারে কেউ-ই কম যান না! সম্প্রতি অশান্ত ইরানে প্রশাসনিক কাজকর্মে তাঁদের প্রভাব বেড়েছে। পেন্টাগনের টার্গেটে –
চারজনের মধ্যে সবচেয়ে গোপনীয় জীবনযাপন করেন। একমাত্র সরকারি মিডিয়াতেই মাঝেমধ্যে দেখা দেন। কোম-এ মৌলবি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরকার-বিরোধী আন্দোলনের সব তথ্য গোপনে বাবাকে সরবরাহ করেন। ইরানের প্রভাবশালী পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করেছেন। সাধারণ জীবনযাপন করেন বলে ইরানি মিডিয়া প্রচার করে। কিন্তু সে সব লোক দেখানো। ১৯৯০-এ ইরানে সিরিয়াল কিলিংয়ে অভিযুক্ত। শ্বশুরের প্রভাবকে এমনভাবে ব্যবহার করেন, যাতে কেউ গায়ে হাত না দিতে পারে।
রাজনৈতিকভাবে খামেনেইয়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী সন্তান। প্রচারে প্রায় সবসময় দেখা যায়। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর-এর সঙ্গে নিবিড় যোগ। ব্যক্তিগত সেনাবাহিনী নিয়ে সরকারি বিরোধী আন্দোলনকে প্রায় একার হাতে দমনে নেমেছেন। ২০১৯ থেকে মোজতবার উপরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি। বাবার সাম্রাজ্য প্রায় একার হাতে আগলে রেখেছেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধ লড়েছেন। লন্ডনে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের হোটেল কিনে রেখেছেন বেনামে। ইরানের তেল বেআইনি পথে বিক্রি করে দুবাইয়ে ভিলা, জার্মানি ও স্পেনে হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কলকাঠি নাড়ার অভিযোগও রয়েছে এই কীর্তিমানের বিরুদ্ধে।
বাবার ধর্মীয় প্রচারের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সুপ্রিম লিডারের ব্যক্তিগত প্রকাশনার দফতর দেখেন। ইরানে কোন্দল শুরু হতেই দেশজুড়ে তলে তলে খামানেই-পন্থী প্রচারের জোর দেন। ইরানের প্রভাবশালী খারাজি পরিবারে বিয়ে করে নিজের ব্যক্তিগত প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়িয়েছেন। ইরানের বিচারব্যবস্থা, অর্থমন্ত্রকে গভীর যোগাযোগ। আজাম-অটোমোবাইল কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত। শশুরের প্রভাবে ব্যাঙ্কের ঋণখেলাপি হয়েও দিব্যি সুখে রয়েছেন।
ছোট হলে কী হবে, অত্যাচার ও দুর্নীতিতে দাদাদের চেয়ে কম নন। বরং এক কাঠি উপরে। ব্যক্তিগত জীবনযাপন মিডিয়ার থেকে দূরে রাখেন। নামে-বেনামে বিদেশে মোটা অঙ্কের সম্পত্তি কিনে রেখেছেন। দামি গাড়ি-বিলাসবহুল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত। একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। দাদাদের মতোই শ্বশুরের প্রভাবে ইরানের মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ন্ত্রণ করেন। ইরানে অশান্তির মধ্যে বুদাপেস্টে লাক্সারি হোটেল কিনেছেন বলে খবর। সেটাও ত্রাণের টাকা থেকে দুর্নীতি করে। শেল কোম্পানি খুলে ইরানের তেল ঘুরপথে বিক্রি করে মোটা টাকা কামান। ইরানের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে শোধ না করারও অভিযোগ রয়েছে।
খামেনেই-এর চার ছেলেই তেহরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকা পিরুজি স্ট্রিটে উঁচু পাঁচিলে ঘেরা প্রাসাদে থাকে। খামেনেই পরিবারের বিরুদ্ধে বিরোধীরা কোটি কোটি ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। জমি, সোনা, তেল- কোন দুর্নীতিতে নাম জড়ায়নি? ইরান অশান্ত হওয়ার পর থেকে নিজের চার ছেলেকেই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেন খামেনেই। অন্য কোনও সেনাকর্তা বা প্রশাসনিক প্রধান বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। কিন্তু নিজের রক্ত বেইমানি করবে না। এই বিশ্বাসে কয়েকদিন আগে যখন মাটির নিচে বাঙ্কারে লুকিয়ে ছিলেন, তখন ছেলেদের হাতে চিরকুটের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছিলেন ইরান প্রশাসনের সঙ্গে। এখন ক্রমশ ইরানের বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে ছেলেদের বসাতে চাইছেন। আর সেটাই ইরানি মানুষদের না-পসন্দ। খামেনেই ও তাঁর ছেলেদের প্রতি ইরানের আম জনতার এই ক্ষোভকেই কাজে লাগাতে চাইছেন ট্রাম্প। তাই পেন্টাগনের শীর্ষ কর্তাদের বলেই রেখেছেন, তাঁর সবুজ সঙ্কেত পেলেই চার সন্তান সহ খামেনেই-কে নিকেশ করে দিতে। ট্রাম্পের চূড়ান্ত সম্মতিরই এখন অপেক্ষা করছে মার্কিন স্পেশ্যাল ফোর্স। তেহরানে লাগাতার বোমাবর্ষণ চালিয়ে সপুত্রক খামেনেইকে নিকেশের।