
ওয়াশিংটন: গালওয়ানের সংঘর্ষ কি পুরোটাই পরিকল্পিত ছিল? আসলে তলে তলে অন্য ফন্দি করছিল চিন? বিরাট প্রশ্ন তুলে দিল আমেরিকা। কার্যত বলা চলে, চিনের হাটে হাড়ি ভেঙে দিল আমেরিকা। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ানে ভারতীয় সেনার সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিন কয়েকের মধ্যেই চিন গোপনে পরমাণু পরীক্ষা করেছিল।
চিনের বিরুদ্ধে এই ভয়ঙ্কর অভিযোগ এনেছে মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট থমাস ডিনান্যো। শুক্রবার জেনেভায় রাষ্ট্রপুঞ্জের সভাতে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন। এই দাবির সময়ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার সঙ্গে রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্রের চুক্তি শেষ হয়েছে। এবার কি তবে চিনের উপরে চাপ সৃষ্টি করে তাদের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন?
মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট এক্স হ্যান্ডেলে একাধিক পোস্ট করে দাবি করেছেন যে চিন গোপনে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করছে। আমেরিকার কাছে গোয়েন্দা সূত্রে এমন খবর এসেছে। এমনকী, ২০২০ সালের ২২ জুন অর্থাৎ গালওয়ান সংঘর্ষের ঠিক সাতদিন পর চিন গোপনে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করেছিল।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রে খবর, চিন গালওয়ান সংঘর্ষের পরই এই পরমাণু পরীক্ষা করে। হয়তো শিনজিয়াং প্রদেশের লোপ নুর সাইটে, যা ভারতের সীমান্তের খুব কাছে। আমেরিকার আরও দাবি, পরমাণু পরীক্ষার সময় চিন ডি-কাপলিং নামক একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে, যার কারণে কোনও সিসমিক সিগন্যাল পাওয়া যায়নি।
ভারতের সঙ্গে চিনের সীমান্ত সমস্যা বা সংঘর্ষের সঙ্গে এই পরমাণু পরীক্ষার প্রসঙ্গ আমেরিকা সরাসরি না জুড়লেও, ছয় বছর পর এই গোপন তথ্য সামনে আসার পিছনে বড় কোনও কারণ থাকতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও কূটনীতিকরা। অনেকেই মনে করছেন, চিনের এই পরমাণু পরীক্ষার পরিকল্পনা অনেকদিন ধরেই ছিল। বিশ্বের নজর ঘোরাতেই গালওয়ানে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষ করে। যখন সবার নজর ভারত-চিনের সীমান্তের উপর, তখন অন্য কোথাও গোপনে পরমাণু পরীক্ষা সেরে ফেলেছে চিন।