
কাঠমাণ্ডু: এতদিন কোনও কিছুর অভাব ছিল না। ধন সম্পত্তি, ঐশ্বর্য্যের প্রাচুর্যে ভরা জীবন। এক দিনেই সেই ছবিটা বদলে গিয়েছে। এখন কোনওভাবে প্রাণ বাঁচাতে পারলেই, তা অনেক বলে মনে করছেন নেপালের নেতা-মন্ত্রীরা। প্রাণ বাঁচাতে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী ওলি। বাকি মন্ত্রীদেরও একই অবস্থা। এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ধরা পড়ল মন্ত্রীরা কীভাবে পালাচ্ছেন। হেলিকপ্টারের ভিতরে নয়, তার সঙ্গে ঝোলা দড়িতে ঝুলতে ঝুলতেই পালালেন মন্ত্রীরা!
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যান-কে কেন্দ্র করেই ঝামেলা-অশান্তি শুরু হয়েছিল। তা ক্রমে বিক্ষোভের আগুনে পরিণত হয়। সংসদ ভবন থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি- সমস্ত কিছুতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরও অশান্তির আঁচ কমেনি। বরং তা আরও বেড়েছিল। দুর্নীতি, পরিবারতন্ত্রকে সমূলে উৎখাত করে যুব প্রজন্মের আন্দোলনকারীরা। সেই কারণেই এই আন্দোলনের নাম দেওয়া হয়েছে জেন-জ়ি আন্দোলন। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়ে পালান।
বর্তমানে সেনার হাতে দেশের শাসনভার। বুধবার থেকেই নেপাল জুড়ে কার্ফু জারি হয়েছে। রাস্তায় নেমেছে সেনা। বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে।
সোশ্য়াল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, নেপালের অর্থমন্ত্রীকে তাড়া করছে সাধারণ মানুষ। রাস্তায় ফেলে তাঁকে লাথি মারা হচ্ছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী আরজু রানা দেউবা ও তাঁর স্বামীকেও মারধর করা হয়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেসের প্রধান শের বাহাদুর দেউবাকেও জনতার হাতে মার খেতে হয়। তাঁর মুখ থেকে রক্ত পড়ছিল।
আরেকটি ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, সেনা হেলিকপ্টারে করে কয়েকজন মন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে আনা হচ্ছে। সরকারি আধিকারিকদেরও হেলিকপ্টারে ঝুলতে ঝুলতে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।