Strait of Hormuz: তেল চাই-ই চাই! হরমুজ প্রণালী খোলাতে এবার ভয়ঙ্কর চাল ট্রাম্পের, এক সপ্তাহেই….
US President Donald Trump: সংঘাত বাঁধতেই তেল সরবরাহের লাইফলাইন হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। চরম সঙ্কটে পড়েছে গোটা বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে সমস্ত যুদ্ধ-সংঘাতে নাক গলান, তাতে অনেকেই মনে করছিলেন হরমুজ প্রণালী খুলতেও হয়তো পদক্ষেপ করবেন ট্রাম্প। তবে এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি।

তেহরান: ইরানের সঙ্গে সম্মুখ সমরে ইজরায়েল-আমেরিকা। সংঘাত বাঁধতেই তেল সরবরাহের লাইফলাইন হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। চরম সঙ্কটে পড়েছে গোটা বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে সমস্ত যুদ্ধ-সংঘাতে নাক গলান, তাতে অনেকেই মনে করছিলেন হরমুজ প্রণালী খুলতেও হয়তো পদক্ষেপ করবেন ট্রাম্প। তবে এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্প যতই চুপচাপ থাকুক না কেন, স্যাটেলাইট ছবি বলছে অন্য কথা। এগোচ্ছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। ট্রিপলি (USS Tripoli) নামক এই যুদ্ধজাহাজে রয়েছে ২২০০ মার্কিন সেনা। তাহলে কি হরমুজ প্রণালীতেই হামলা চালাবে বা দখল নেবে আমেরিকা?
উপগ্রহ চিত্র বলছে, বর্তমানে ভারতের খুব কাছে, দক্ষিণ ভারত মহাসাগরেই রয়েছে মার্কিন রণতরী। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তা মধ্য প্রাচ্যে ঢুকে পড়তে পারে। আর তা হলে, ইরানের যুদ্ধ নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছবে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, “আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না। আর যদি আমি সেনা পাঠাই, তাহলে অবশ্যই তা বলব না।”
ট্রাম্প গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করলেও, রয়টার্স সূত্রে খবর, ইরানে হাজার হাজার সেনা পাঠানোর কথা চিন্তাভাবনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, হরমুজ প্রণালী খোলার জন্যই এই পদক্ষেপ করতে পারেন ট্রাম্প। এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২০ শতাংশ যায়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হতেই ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। তবে ভারতের অনুরোধে হাতে গোনা তেলের ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দিচ্ছে ইরান।
এদিকে, সংঘাতের আবহে ইরান ট্রানজিট ফি-ও চাপিয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে সুরক্ষিতভাবে যাতায়াতের জন্য ২ মিলিয়ন ডলার (১৮ কোটি টাকা) চেয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ক্রমাগত বন্ধু দেশগুলির উপরে চাপ সৃষ্টি করছে হরমুজ প্রণালীতে রণতরী পাঠাতে। যদিও কেউই সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। এবার হয়তো ইউএসএস ট্রিপলি পাঠিয়ে হরমুজ প্রণালী খোলানোর চেষ্টা করতে পারে আমেরিকা।
মার্কিন আধিকারিকদের আরেক সূত্রের খবর, মার্কিন নৌসেনা তাদের রণতরী নিয়ে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে হামলা করতে পারে। এখানের এক বা একাধিক দ্বীপ দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করবে। খার্গ আইল্যান্ডেও সেনা পাঠাতে পারে আমেরিকা। এই দ্বীপকে ইরানের ‘মুকুটের মণি’ বলা হয়। ৯০ শতাংশ তেল সরবরাহই এর মধ্যে দিয়ে হয়। গত ১৩ মার্চ আমেরিকা এই দ্বীপে বোমা ফেলে, যদিও তাতে তেলের পরিকাঠামোয় কোনও ক্ষতি হয়নি। এবার আমেরিকা এই দ্বীপ দখল নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেই অনুমান।
