
ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যোগ দেওয়া আন্দোলনকারীদের বিশেষ রক্ষাকবচ দিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সামনেই নির্বাচন। নতুন সরকার গঠন হওয়ার সম্ভবনাও তুঙ্গে, তার আগেই বড় সিদ্ধান্ত ইউনূসের উপদেষ্টা মণ্ডলীর। নয়া অধ্যাদেশ পেল অনুমোদন। ফৌজদারি বিপাক থেকে মুক্ত হল হাসিনা-বিরোধী গণঅভ্যুত্থানে যোগ দেওয়া আন্দোলনকারীরা।
বৃহস্পতিবার এই মর্মে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীতে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। তাতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যুক্ত আন্দোলনকারীদের ‘দায়মুক্তি’ দিতে তৈরি অধ্যাদেশে অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। পাশাপাশি, আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্য়ে সেই অধ্যাদেশ গ্যাজেট আকারে প্রকাশিত হয়ে যাবে বলেও জানিয়েছেন পরিষদের সদস্যরা।
এদিন বৈঠক শেষে বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্য়ুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ, এই সরকারের একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। জুলাই গণঅভ্য়ুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি সরকারের যে দৃষ্টি ছিল, তার ভিত্তিতেই এই অধ্যাদেশ তৈরি করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের (আওয়ামি লিগের সরকার) পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য়ে সংগঠিত কর্মকাণ্ডের জন্য কাউকে ফৌজদারি মামলায় জড়ানো যাবে না।’
এই নয়া অধ্যাদেশের ফলে ২০২৪ সালের পয়লা জুলাই থেকে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে হাসিনা-বিরোধী সকল প্রকার রাজনৈতিক প্রতিরোধ বা কর্মকাণ্ডের জেরে যারা ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন, তাদের মামলা প্রত্যাহার করে ‘দায়মুক্ত’ করল ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে আগামী দিনেও সেই সকল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার পথ বন্ধ করে দিল তারা।
অবশ্য আইন উপদেষ্টা এও জানিয়েছেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে ব্য়ক্তিগত বা সংকীর্ণ স্বার্থ সংরক্ষণে হওয়া হত্যাকাণ্ড বা সংহিসতার ক্ষেত্রে এই দায়মুক্তি প্রযোজ্য হবে না।’ বলে রাখা প্রয়োজন, ওই কয়েক মাসে ঘটা কোন ঘটনা রাজনৈতিক প্র্রতিরোধ এবং কোন ঘটনা ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে ঘটানো হয়েছে, তা নির্ধারণ করবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তাঁদের দেওয়া রিপোর্টই হবে চূড়ান্ত। পাশাপাশি, আগামী ৩১ জানুয়ারি মধ্যে নতুন মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হবে বলেই জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা।