
বাজেটের আগেই ২৯ জানুয়ারি সংসদে পেশ করা হয়েছে ইকোনমিও সার্ভে। এই ইকোনমিক সার্ভেতে প্রকাশ করা হয়েছে কোন কোন ক্ষেত্রে ভাল বৃদ্ধি হয়েছে। তেমনই দেখানো হয়েছে কোন কোন খাতে উদ্বেগ রয়েছে।
গত কয়েক বছরে ভারতের অর্থনীতি ক্রমাগত ভাল ফলাফল করলেও বেশ কিছু জাগয়া এমনও রয়েছে যেখানের সমীক্ষা উদ্বেগে ফেলছে কেন্দ্রকে। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষা স্পষ্ট ভাবে দেখাচ্ছে যে কিছু কিছু সমস্যা এমন রয়েছে যার এখনই কোনও পরিকল্পনা না করলে আগামীতে চ্যালেঞ্জের জায়গা তৈরি করবে।
ভারতের অর্থনীতিতে এখনও ফিসকাল ডেফিসিট রয়েছে। পরিষেবা রফতানি ও রেমিট্যান্স এই ঘাটতি পুরপূরি সামলানো যাবে না। ফলে, বিদেশি পুঁজির উপর বাড়ছে নির্ভরতা। ফলে বিশ্বের অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে চাপ তৈরি হচ্ছে ভারতের মুদ্রার উপর।
পরিষেবা ক্ষেত্রে রফতানি বাড়লেও পণ্য রফতানির পরিমাণ তুলনায় অনেকটাই দুর্বল। সমীক্ষা বলছে দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় মুদ্রার স্থিতিশীলতা ও কৌশলগত শক্তির জন্য উৎপাদু খাতে প্রতিযোগিতা তৈরি করা জরুরি।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই রিপোর্টই বলছে আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে এলেও বহু রাজ্যে বাড়ছে রাজস্ব ঘাটতি। বিভিন্ন রাজ্যে শর্তহীন ভর্তুকির প্রবণতা বেড়েছে। আর এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মূলধনী ব্যয়। ফলে, সামগ্রিক সরকারি আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।
সমীক্ষা বলছে ভারতে ঋণ মেটাতে খরচ হচ্ছে অনেকটা বেশি টাকা। আর এটা ভারতের মুদ্রানীতির কোনও সমস্যা নয়। এটা আসলে দেশের একটি কাঠামোগত সমস্যা। এর মূল কারণ হল সঞ্চয় ও হিসাবের ঘাটতি। এর ফলে কমছে শিল্পে বিনিয়োগ।
বিশ্ব বাণিজ্য এই মুহূর্তে দক্ষতার তুলনায় নিরাপত্তা ও রাজনীতিনির্ভর হয়ে উঠছে। শুল্ক বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক সংঘাত ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ভারতের রপ্তানি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মূলধনের জোগানের ক্ষেত্রে একটা ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইস্পাত বা টেক্সটাইলের মতো শিল্পে অতিরিক্ত সুরক্ষা বলয় তৈরি করলে এই ধরনের শিল্পের পণ্যের রফতানি খরচ বেড়ে যায়। সমীক্ষা বলছে এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে রফতানি প্রতিযোগিতা।
প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে একাধিক জটিলতার কারণে একাধিক ভাল নীতি কার্যকর হতে দেরি হচ্ছে।