
ভারতের আয়কর ব্যবস্থায় সরলীকরণই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য, ইউনিয়ন বাজেট ২০২৬ তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। হঠাৎ করে পুরনো করব্যবস্থা তুলে দেওয়ার ঘোষণা না হলেও, নীতির গতিপথ বলছে নতুন ট্যাক্স রেজিমের দিকেই ধীরে ধীরে ঝুঁকছে কেন্দ্রীয় সরকার।
গত কয়েক বছরে কর ফাইলিং সহজ করা, ছাড় ও ছাড়পত্র কমানো এবং কর ব্যবস্থাপনা হালকা করাই মূল লক্ষ্য। এই ভাবনাতেই তৈরি হয় নতুন আয়কর ব্যবস্থা, যেখানে জটিল পরিকল্পনা বা দীর্ঘ কাগজপত্রের প্রয়োজন নেই।
এক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ভবিষ্যতে যদি কোনও পরিবর্তন আসে, তা নিউ ট্যাক্স রেজিমকেই আরও শক্তিশালী করবে। তাঁর মতে, ‘বিভিন্ন ছাড় ও ব্যতিক্রম তুলে দিয়ে করব্যবস্থা আরও সহজ করাই সরকারের লক্ষ্য। তাই সংশোধন হলেও তা শুধুমাত্র নতুন কর কাঠামোতেই হবে।”
তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন যে—পুরনো করব্যবস্থা রাতারাতি বন্ধ হচ্ছে না। যাঁরা এখনও ক্যারি-ফরওয়ার্ড লস বা নির্দিষ্ট ছাড়ের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের জন্য পুরনো ব্যবস্থা চালু থাকবে।
আর এক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এই বাজেটই নাকি প্রমাণ করে দেবে পুরনো কর কাঠামো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক বছরে প্রায় ৭২ শতাংশ করদাতা নতুন ব্যবস্থাকেই বেছে নিয়েছেন।
স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন দুই ব্যবস্থাতেই থাকায়, সহজ নিয়ম ও কম ঝামেলার কারণে নতুন কর কাঠামোই এখন অনেকের প্রথম পছন্দ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—আপনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দু’টি ব্যবস্থাই নিজের আয় ও ছাড় অনুযায়ী ভালো করে তুলনা করুন। আর এই সবের একটাই অর্থ, পরিবর্তন হচ্ছে—কিন্তু ধাপে ধাপে। লক্ষ্য একটাই, আরও স্বচ্ছ ও সহজ করব্যবস্থা।