
২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। একাধিক প্রতিবেশীর সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন, সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা রয়েছে নয়া দিল্লির। আর এই সমস্যা ঠেকাতে প্রয়োজন আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির। আর সেই সবের কারণেই এবারের বাজেটে প্রতিরক্ষায় বরাদ্দ ছাপিয়ে যাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬ লক্ষ ৮১ হাজার কোটি টাকার অঙ্ককে ছাপিয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের বাজেটের মূল ফোকাসে থাকবে মূলধনী ব্যয় বা ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও প্রতিরক্ষা জোরদার করতে আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল ও কাউন্টার আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেনা ও তা দেশে তৈরির জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দ করা হতে পারে। লক্ষ্য একটাই— সেনাকে প্রযুক্তিনির্ভর, দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলা।
আসন্ন বাজেটের আরও একটি বড় স্তম্ভ হল প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’। বিদেশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করা সরকারের কৌশলগত অগ্রাধিকারের মধ্যে পড়ে। আর সেই কারণেই হয়তও DRDO-র গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে আসন্ন বাজেটে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হতে পারে। পাশাপাশি এতে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ ও প্রতিরক্ষা রপ্তানি বাড়ানোর দিকেও নজর থাকবে।
একদিকে শক্তি বৃদ্ধি করছে চিন। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও চিন দুই সীমান্তেই সুরক্ষা নিয়ে বাড়ছে চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়াও বর্তমান যুধে বাড়ছে সাইবার, মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর যুদ্ধের সম্ভাবনাও। আর সেই কারণেই এবারের বাজেটে বাড়তে পারে প্রতিরক্ষা খাতে খরচও। শিল্পমহল, বাণিজ্যমহল চাইছে প্রতিরক্ষা বাজেটের অন্তত ৩০ শতাংশ যেন বরাদ্দ হয়ে ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচারে। যা বর্তমানে প্রায় ২৬ শতাংশ।
এ ছাড়াও ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষের মধ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা রফতানির লক্ষ্যে একটি বিশেষ ডিফেন্স এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিল তৈরির প্রস্তাবও এবারের বাজেটে দেওয়া হতে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর বাজেট শুধু নিরাপত্তা নয়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।