
ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখ রবিবার হওয়া সত্ত্বেও সেদিন ভারতের সংসদে পেশ হবে কেন্দ্রীয় বাজেট। দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন পেশ করবেন সেই বাজেট। সেই বাজেটই দিশা দেখাবে আগামী অর্থবর্ষে সরকার কোন কোন ক্ষেত্র থেকে রাজস্ব সংগ্রহ করবে আর সেই অর্থ কোন খাতে ব্যয় করবে সরকার। তবে এই বাজেট পেশ হওয়ার আগে যে নথিটি সংসদের উপস্থাপন করা হয়, সেটাই হল দেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা।
অর্থমন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়কের উপদেষ্টার বার্ষিক রিপোর্ট হল এই অর্থনৈতিক সমীক্ষা। এতে গত ১ বছরে দেশের অর্থনীতির বাস্তব চিত্রটা তুলে ধরা হয়। অর্থাৎ, শেষ বাজেটের বাস্তবিক প্রয়োগ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায় এই সমীক্ষা থেকে। কৃষি, শিল্প, পরিষেবা, রফতানি, কর্মসংস্থা সহ দেশের একাধিক ক্ষেত্রের গত ১ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয় এই সমীক্ষায়।
বাজেট হল আগামী অর্থবর্ষের পরিকল্পনা। কর হিসাবে কত টাকা আসবে, কত টাকা খরচ হবে, কোথায় খরচ হবে; এই সব থাকে বাজেটের হিসাবে। আর এই অর্থনৈতিক সমীক্ষা হল অতীত ও বর্তমানের মূল্যায়ন। যে মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করে দিশা দেখবে আগামী। এতে তথ্য, পরিসংখ্যান, প্রবণতা ও পূর্বাভাস থাকে। যা আসলে কাজ করে বাজেট তৈরি ভিত্তি হিসাবে।
এই ধরনের অর্থনৈতিক সমীক্ষা আসলে দেশের নীতিনির্ধারকদের জানায় আগের বাজেটে কোন কোন ক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে। আর কোন কোন ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে সমস্যা। ফলে, আগামীতে যে কোনও কিছু বদলাতে গেলে এই সমীক্ষার সাহায্য নিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। এই রিপোর্ট দেশের সংসদ ও দেশের সাধারণ মানুষের কাছে দেশের অর্থনীতির আসল ছবিটা স্পষ্ট করে দেয়। মুদ্রাস্ফীতি, বৃদ্ধি, দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের বাস্তবতা সম্পর্কে আসল ধারণা পাওয়া যায়।
এই সমীক্ষায় দেশের জিডিপির বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতির মতো একাধিক সূচক, বিভিন্ন সেক্টর ভিত্তিক আলোচনা, সামাজিক সূচক ও নীতিগত সুপারিশ থাকে। তথ্য, চার্ট ও সহজ ব্যাখ্যার মাধ্যমে জটিল অর্থনৈতিক চিত্রকে বোঝানোই এই সমীক্ষার আসল উদ্দেশ্য।