e

রবিবার বাজেট। আর বাজেটের আগেই মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে একধাক্কায় সোনা ও রুপোর দাম পড়ল প্রায় ৬ শতাংশ করে। টানা দুদিন ধরে বৈশ্বিক ধসের ধাক্কা এসে লেগেছে ভারতের বাজারেও। গতকাল শনিবার বাজার বন্ধ থাকায় শেয়ার বাজারের ইটিএফ বা গোল্ড বা সিলভার ফান্ডগুলোতে এই ধাক্কার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি। যদিও আজ বাজার খুলতেই দেখা গিয়েছে সব মিলিয়ে ৯ শতাংশের বেশি পড়েছে এই দুই মহা-মূল্যবান ধাতু।
শুক্রবার থেকেই ইঙ্গিত ছিল যে সর্বোচ্চ দর ছুঁয়ে ফেলার পর এবার হুড়মুড়িয়ে পড়তে পারে সোনা ও রুপোর দম। সেদিনই স্পট মার্কেটে সোনার দাম পড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। ৮০-এর দশকের পর থেকে এটাই হয়তও সবচেয়ে বড় পতন। আর ভারতীয় শেয়ার বাজার শনিবার বন্ধ থাকায়, সেই ধাক্কা শেয়ার বাজারে এসে লাগে বাজেটের ঠিক আগেই।
মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে এই মুহূর্তে ১০ গ্রাম সোনার দাম ঠেকেছে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকায়। এ ছাড়াও নেমেছে রুপোর দামও। প্রতি কেজিতে রুপোর দাম ঠেকে গিয়েছে ২ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকায়। আর এই অস্থিরতার প্রভাব এসে পড়েছে মাল্টি কমীদিটি এক্সচেঞ্জের শেয়ারের দামেও।
এবারের বাজেটের আগে জুয়েলারি সেক্টরে একটাই গুঞ্জন। এবারের বাজেটে সোনা ও রুপোর আমদানিতে কর কমাতে পারে সরকার। বর্তমানে বেসিক কাস্টমস ডিউটি ৬ শতাংশ ও জিএসটি ৩ শতাংশ। অর্থাৎ সোনার দামের উপর প্রায় ৯ শতাংশ কর বসে। এবার সরকার যদি আমদানি শুল্ক বা জিএসটি আরও কমায় তাহলে সোনা বা রুপোর দাম আরও কমে যাবে। আশা করা হচ্ছে সোনায় ২-৩ হাজার টাকা ও রুপোয় ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন রেকর্ড দামের পর সোনার দামে এই পতনের একটা কারণ হল অনেক বিনিয়োগকারীর সোনা বা রূপও বিক্রি করে লাভ ঘরে তুলে দেওয়া। বিশেষজ্ঞরা যদিও বলছেন, পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র রাখতে। আতঙ্কে বিক্রি করতে বারণ করছেন তাঁরা।
রুপোর দামে এই পতনের কারণেই ধাক্কা খেয়েছেন অনেক বিনিয়োগকারী। রুপোর দাম বাড়ার পিছনে একটা মূল কারণ ছিল এই ধাতুর সরবরাহে টানাটানি ও ইলেকট্রনিক্স ও গাড়ি শিল্পে রুপোর চাহিদা। আর সেই কারণেই একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে বিনিয়োগই করতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।