
রবিবার ছুটির দিনে সংসদে ইতিহাস গড়লেন নির্মলা সীতারামন। অর্থমন্ত্রী হিসাবে নবম বাজেট পেশ করলেন তিনি। আর এই বাজেটে তিনি শুধু অঙ্ক কষলেন না। বরং তৈরি করলেন ‘আগামীর সেতু’। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক-হুমকি, অন্যদিকে দেশের ভেতরে উৎপাদন বাড়ানোর চাপ— এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এইবারের বাজেট?
বাংলার শিল্পমহলের জন্য সবথেকে বড় খবর— ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর। এবার সরাসরি রেলপথে জুড়বে ডানকুনি এবং সুরাট। এর ফলে বাংলার পাট এবং টেক্সটাইল পণ্য অনেক কম খরচে এবং দ্রুত দেশের পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছাবে। পাশাপাশি দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর। যদিও এটাকে ভোটের মুখে বাংলার জন্য একে বড় ‘পলিটিক্যাল সিগন্যাল’ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
বাংলার লেদার সেক্টর দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, জুতো তৈরির উপকরণের ওপর এখন থেকে আর ডিউটি দিতে হবে না। কাউন্সিল ফর লেদার এক্সপোর্টস-এর মতে, ট্রাম্পের ট্যারিফ যুদ্ধের আবহে এই সিদ্ধান্ত বাংলার প্রায় ৫ লক্ষ চর্মশিল্প কর্মীকে বড় সুরক্ষা দেবে।
আপনি কি ছেলে-মেয়েকে বিদেশে পড়ানোর কথা ভাবছেন? তবে আপনার জন্য সুখবর। ট্যাক্স রেমিটান্সের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ওপর যে কর অর্থাৎ ট্যাক্স কালেক্টেড অ্যাট সোর্স তা ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৭টি ক্যানসারের ওষুধের ওপর থেকে কাস্টমস ডিউটি পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ জীবনদায়ী ওষুধের দাম কমছে আপনার শহরেও।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, নতুন ‘ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ২০২৫’ সাধারণ মানুষের জন্য ট্যাক্স ফাইল করা অনেক সহজ করে তুলবে। যদিও স্ল্যাবে কোনো বড় বদল নেই, তবে নিয়ম সহজ হওয়ায় ‘ট্যাক্স-টেররিজম’ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা কি পারবে এই পরিকাঠামোকে ব্যবহার করে নতুন বিনিয়োগ টানতে? ডানকুনি করিডর কাগজ-কলমে দারুণ, কিন্তু বাস্তবে তার কাজ কতটা দ্রুত এগোয়, সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে শিল্প মহল।