বিদেশি সংস্থার হাতে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে IDBI Bank, গ্রাহকদের কী হবে?
IDBI Bank Strategic Sale: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত করা পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার ও এলআইসি নিজেদের হাতে থাকা আইডিবিআই ব্যাঙ্কের বড় অংশের শেয়ার বিক্রি করবে। তবে বিক্রির পরেও দুই পক্ষের হাতে ব্যাঙ্কের ৩৪ শতাংশ শেয়ার থাকবে।

নয়া দিল্লি: দেশের অন্যতম বড় ব্যাঙ্কের বিলগ্নীকরণে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় সরকার। আজ, বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটি আইডিবিআই ব্যাঙ্কের পুনর্গঠন ও বিলগ্নীকরণে অনুমোদন দেয়। এর ফলে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ ইক্যুয়িটি বিক্রিতে কোনও বাধা রইল না। কানাডার সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্স ফিন্যান্সিয়াল হোল্ডিং-র কাছে ৫২ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকায় আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০ শতাংশ বিক্রি হয়ে যাবে।
এটি দেশের আর্থিক সেক্টরে সবথেকে বড় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট হতে চলেছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার এবং জীবন বিমা নিগম বা এলআইসি (LIC)-এর যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া আইডিবিআই (IDBI) ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া কয়েক বছর পর সম্পূর্ণ হতে চলেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত করা পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার ও এলআইসি নিজেদের হাতে থাকা আইডিবিআই ব্যাঙ্কের বড় অংশের শেয়ার বিক্রি করবে। তবে বিক্রির পরেও দুই পক্ষের হাতে ব্যাঙ্কের ৩৪ শতাংশ শেয়ার থাকবে। তবে এই বিলগ্নীকরণে গ্রাহকদের উপরে কোনও প্রভাব পড়বে না।
প্রসঙ্গত, এই বিক্রির সিদ্ধান্তের আগে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের মালিকানার এলআইসি (LIC)-এর ৪৯.২৪ শতাংশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ৪৫.৪৮ শতাংশ শেয়ার ছিল। শুধু শেয়ার বিক্রিই নয়, এই চুক্তির মাধ্যমে ব্যাঙ্কের পরিচালন ও ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণও নতুন ক্রেতার হাতে চলে যাবে। আইডিবিআই ব্যাঙ্কে নতুন করে বেসরকারি পুঁজিও আসবে।
এই চুক্তির আগে দীর্ঘ সময় ধরে যাবতীয় নথিপত্র ও আর্থিক বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে। এর আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছিল। আর্থিক দরপত্রগুলি বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে পর্যালোচনা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত, প্রতি শেয়ার ৮১ টাকা দরে এই লেনদেনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং দেশের ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি। এর ফলে, নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকের শেয়ার রাখার ব্যবস্থা বর্তমান মালিকানা সংক্রান্ত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা ফেয়ারফ্যাক্স (Fairfax)-এর ভারতে প্রবেশে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ব্যবসায়িক বৃদ্ধি আরও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ব্যাঙ্কে উন্নত আন্তর্জাতিক পরিচালন পদ্ধতি চালু হতে পারে। এর পাশাপাশি প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ হতে পারে এবং ব্যাঙ্কের আর্থিক অবস্থাও আরও শক্তিশালী হতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকদের বক্তব্য, মোট ৩৪ শতাংশ শেয়ার নিজেদের হাতে রাখার ফলে ভবিষ্যতে ব্যাঙ্কের মূল্য বৃদ্ধি হলে সরকারও তার সুফল পাবে। একই সঙ্গে, দেশের সরকারি সম্পদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে। এই চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হলে ভারতের সরকারি সংস্থাগুলির বিলগ্নিকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
