AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Electricity Demand: গরমে জ্বলছে দেশ, বিদ্যুতের চাহিদায় রোজই নয়া রেকর্ড ! লোডশেডিং কি বাড়়বে?

India Power Crisis: ভারতের বেশ কয়েকটি জায়গায় দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক গড়কে ছাড়িয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে রাতগুলোও অস্বাভাবিকভাবে বেশি গরম থাকছে। এর প্রধান একটা কারণ গরম বাড়ার ফলে এসি তুলনায় অনেক বেশি চলছে ও দীর্ঘক্ষণ ধরে চালানো হচ্ছে। অত্যধিক গরমের জন্য সারারাত হয়তো একটানা এসি চলছে। সেইকারণেই প্রতিবার তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়।

Electricity Demand: গরমে জ্বলছে দেশ, বিদ্যুতের চাহিদায় রোজই নয়া রেকর্ড ! লোডশেডিং কি বাড়়বে?
ভারতে বিদ্যুতের চাহিদাImage Credit: Meta AI
| Updated on: May 21, 2026 | 10:06 AM
Share

নয়া দিল্লি : দেশের একাধিক এলাকায় তাপপ্রবাহ চলছে। বিশেষ করে উত্তর ভারতে (North India) প্রতিদিন নতুন রেকর্ড গড়ছে তাপমাত্রা। দিল্লি (Delhi), ফরিদাবাদের (Faridabad) মতো জায়গায় তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। কোথাও আবার তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি। সকাল থেকেই চড়া রোদ। সেইসঙ্গে তাপপ্রবাহ। বাইরে বেরনোই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারই মধ্যে আরও একটা রিপোর্টও সামনে এসেছে সম্প্রতি। দেখা গিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ ১০০টি শহরের সব ক’টিই ভারতে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। বিদ্যুতের চাহিদায় (India’s Power Demand) প্রতিদিন নতুন রেকর্ড গড়ছে ভারত। এই বিষয়ে সাম্প্রতিক যা তথ্য উঠে এসেছে, তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বিদ্যুতের চাহিদা (Power Demand) যেভাবে বাড়ছে তাতে আগামীদিনে কি বিদ্যুতের বড় ঘাটতি দেখা যাবে দেশে?

বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধিতে নয়া রেকর্ড

বুধবারের হিসেবে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা এই সপ্তাহে এক নতুন রেকর্ড গড়েছে। নজিরবিহীন উচ্চতা ছুঁয়েছে বিদ্যুতের চাহিদা। জানা গিয়েছে, বুধবার দেশের বিদ্যুত চাহিদা ২৬৫ গিগাওয়াট (GW) অতিক্রম করেছে। যা মঙ্গলবার ছিল ২৬০.৪৫ গিগাওয়াট। উত্তর, পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। তার জেরেই বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। বেশ কয়েকটি শহরে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকায় ও দিন-রাত এয়ার কন্ডিশনার, কুলার এবং ফ্যানের ব্যবহারের ফলেই মূলত এই চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিগত বছরগুলোর তুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা কতটা বেশি?

  • হিসেব বলছে, গত বছরগুলোর তুলনায় এই বছর বিদ্যুতের চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে।
  • ২০২৬ সালের আগে ২০২৪ সালে বিদ্যুতের চাহিদায় সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছিল ভারত। মে মাসে সেই বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ২৫০ গিগাওয়াট।
  • ২০২৫ সালে তুলনামূলকভাবে গরম কম থাকায়, আবহাওয়া অনুকূল থাকার কারণে এবং আগেভাগে বর্ষা আসায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ২৪২-২৪৩ গিগাওয়াটের কম ছিল।
  • ২০২৬ সালে সেই চাহিদা একলাফে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে ২৫২ গিগাওয়াট, ২৫৬ গিগাওয়াট, ২৬০ গিগাওয়াট এবং এখন ২৬৫ গিগাওয়াট অতিক্রম করেছে। অর্থাৎ, গতবছরে গরমকালের তুলনায় চলতি বছর ভারতে বিদ্যুতের চাহিদা ২০ গিগাওয়াটেরও বেশি বেড়েছে। যা গ্রিডের হিসাবে বৃদ্ধিতে বড় লাফ বলা হচ্ছে।

বিদ্যুতের হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধির কারণ কী কী?

ভারতের বেশ কয়েকটি জায়গায় দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক গড়কে ছাড়িয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে রাতগুলোও অস্বাভাবিকভাবে বেশি গরম থাকছে। এর প্রধান একটা কারণ গরম বাড়ার ফলে এসি তুলনায় অনেক বেশি চলছে ও দীর্ঘক্ষণ ধরে চালানো হচ্ছে। অত্যধিক গরমের জন্য সারারাত হয়তো একটানা এসি চলছে। সেইকারণেই প্রতিবার তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়। শহরাঞ্চলে এই চাহিদা বিশেষভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে এসি কেনার ধুম পড়ে গিয়েছে।

উত্তর ভারতেই বিদ্যুতের চাহিদা বেশি বাড়ছে। বিশেষ করে দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায়। বুধবারই দুপুর ৩ টে ৩৫ মিনিট নাগাদ দিল্লিতে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। জানা গিয়েছে, রাজধানীতে বিদ্যুতের চাহিদা ৮,০৩৯ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির আরও একটা প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যে প্রাইভেট গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া, বৈদ্যুতিক যানবাহন, জৈব জ্বালানি এবং বিকল্প শক্তি ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে। কিন্তু, বৈদ্যুতিক গাড়ি যেমন ইলেকট্রিক স্কুটার, গাড়ি, বাণিজ্যিক যানবাহন বেশি চললে বিদ্যুৎ গ্রিডের উপর আরও চাপ সৃষ্টি হবে। এতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে।

ভারতের গ্রিড কি এই চাপ সামলাতে পারবে নাকি তৈরি হবে বিদ্যুৎ সংকট?

এখনও পর্যন্ত, রেকর্ড পরিমাণ চাহিদা সত্ত্বেও ভারতের গ্রিড দেশব্যাপী সংকট এড়াতে সক্ষম হয়েছে। সরকার বারবার উল্লেখ করেছে, বড় ধরনের ঘাটতি ছাড়াই বিদ্যুত চাহিদার সর্বোচ্চ রেকর্ড সফলভাবে মেটানো হয়েছে। ২০২২ সালের তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের সময়ের তুলনায় বর্তমানে কয়লার মজুতও বেশ শক্তিশালী। ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখনও ৭০ শতাংশের বেশি আসে কয়লা থেকে। দিনের বেলায় চাহিদার সর্বোচ্চ সময়ে চাহিদা মেটানোয় সাহায্য করছে সৌরশক্তি। কিন্তু ব্যাটারি স্টোরেজ পরিকাঠামো সীমিত হওয়ায় সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যার চাহিদা সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে, আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গরম আরও বাড়বে। উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি জায়গায় হলুদ সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। এরকম চলতে থাকলে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে ঘাটতি তৈরি হলে বিদ্যুত সংকট হতে পারে। লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বাড়তে পারে। যদিও, কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই।

Follow Us