Bardhaman News: বাম জমানার পতনের পর স্বাস্থ্য কেন্দ্র বদলে গিয়ে হল জঙ্গল!
বর্ধমান ১ ব্লক বিজেপির ৫ নং মন্ডল সভাপতি সাগ্নিক শিকদার বলেন, "তৃণমূল জমানায় যেভাবে দুর্নীতি হয়েছে তার থেকে বাদ যায়নি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে একেবারে অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। এখানেও দুর্নীতির তদন্ত করা হবে পাশাপাশি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রর উন্নতির ব্যবস্থা করা হবে।"

বর্ধমান: ১৯৫১ সালে শুরু হয়েছিল স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বর্তমানে সেটি পরিণত হয়েছে জঙ্গলের স্তুপে। অনিয়মিত চিকিৎসক, তলানিতে চিকিৎসা পরিষেবা। কর্মীর অভাবে ধুঁকছে বর্ধমান ২ নম্বর ব্লকের রাইপুরে অবস্থিত গোবিন্দপুর উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র।
দেশ স্বাধীন হওয়ার বছর পাঁচেক পর ৪ জন চিকিৎসক ও ৯ জন কর্মী নিয়ে শুরু হয়েছিল কাশিয়ারা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। শুরু থেকে প্রসূতি বিভাগে রোগী ভর্তির জন্য বেড ছিল, ছিল অপারেশনের থিয়েটার। এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই প্রসূতিদের প্রসব করান থেকে ভর্তি সবটাই করা হত। বাম জমানার শেষ দিকেও এই পরিষেবা পাওয়া যেত বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু বাম জমানার পতনের পর তৃণমূল ক্ষমতায় আসতেই কোন এক অজ্ঞাত কারণে ধীরে ধীরে সেই সব পরিষেবা এখান থেকে আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ।
আবার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় গোবিন্দপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। কী কারণে নাম পরিবর্তন তা আজও অজানা স্থানীয়দের। এমনকি স্টাফ ও চিকিৎসকদের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পিছনেই ছিল স্টাফ কোয়াটার। সেসব এখন ধ্বংসস্তূপ। স্টাফ কোয়ার্টারে অব্যবহৃত বিল্ডিংয়ে এখন দুস্কৃতিদের আনাগোনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুপুর তিনটের পর স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে শুরু হয় দুষ্কৃতীদের আনাগোনা। পুরোনো বিল্ডিংয়ের ভিতরে চলে মদের আসর।
বর্তমানে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নিয়মিত আসেন না। ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে রোটেশন মাফিক একজন করে চিকিৎসক আসেন, তাও আবার নিয়মিত আসেন না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারিপাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। জঙ্গলে ভরে গেছে চারিপাশ। ফার্মাসিস্ট মলয় সরকার জানান, প্রয়োজনের তুলনায় স্টাফ কম। চিকিৎসক আসেন তবে নিয়মিত নয়। এখানকার ফিমেল হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট বাসন্তী মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমি প্রায় অনেক বছর এখানে কর্মরত আছি। আগে এখানেই প্রসব, লাইগেশন হতো, ভর্তির ব্যবস্থা ছিল। তবে এখন আউটডোর পরিষেবা সচল আছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা চাইছেন, পুনরায় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভর্তি করানোর মতো বেড বা চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা করা হোক। তাঁদের অভিযোগ, আগে এখানে সাপে কাটা রোগীরও চিকিৎসা করা হতো। কিন্তু এখন সাপে কাটা কোন রোগী এলে তাদের ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রেফার করা হয়, কিংবা রোগীদের ১৫ কিলোমিটার দূরে বর্ধমান হাসপাতালে যেতে হয়। চিকিৎসক অনিয়মিত তাই এখানে এলে চিকিৎসা পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। চিকিৎসা পরিষেবা নিতে এসে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকায়। বাধ্য হয়েই তাই বড়শুলে ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা বর্ধমান হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যেতে হয়। স্থানীয়রা চাইছেন, চিকিৎসা পরিষেবা সচল, উন্নত হবার পাশাপাশি পুরোনো নাম অর্থাৎ গোবিন্দপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রর পরিবর্তে কাশিয়ারা উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র করা হোক। বর্ধমান ১ ব্লক বিজেপির ৫ নং মন্ডল সভাপতি সাগ্নিক শিকদার বলেন, “তৃণমূল জমানায় যেভাবে দুর্নীতি হয়েছে তার থেকে বাদ যায়নি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে একেবারে অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। এখানেও দুর্নীতির তদন্ত করা হবে পাশাপাশি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রর উন্নতির ব্যবস্থা করা হবে।”
