Indian Stock Market: দেশের শেয়ার বাজারের মানচিত্র থেকে মুছে যেতে চলেছে বাংলার ঐতিহ্য?
Calcutta Stock Exchange, ITC: ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে এবার স্বেচ্ছায় সরে যাবে ভারত তথা এই শহরেরই সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলির মধ্যে অন্যতম আইটিসি লিমিটেড। যদিও NSE বা ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ ও BSE বা বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে আইটিসির শেয়ারের লেনদেন স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

স্টক মার্কেটে কোনও শেয়ারের লিস্টিংয়ের কথা তো আকছার শুনে থাকবেন। কিন্তু ডিলিস্টিংয়ের কথা শুনেছেন কি? মানে কোনও স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে নিজেদের নাম তুলে নিচ্ছে কোনও সংস্থা? দেশের অন্যতম প্রাচীন স্টক এক্সচেঞ্জ, CSE বা ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে নিজেদের শেয়ারের ডিলিস্টিং অনুমোদন করল আইটিসি লিমিটেড। গত ৩০ অক্টোবর একটি এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ে এই ঘোষণা করা হয়েছে। এর অর্থ, বাংলার আর্থিক ঐতিহ্যের প্রতীক ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে এবার স্বেচ্ছায় সরে যাবে ভারত তথা এই শহরেরই সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলির মধ্যে অন্যতম আইটিসি লিমিটেড। যদিও NSE বা ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ ও BSE বা বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে আইটিসির শেয়ারের লেনদেন স্বাভাবিকভাবেই চলবে।
বন্ধের পথে কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ?
আইটিসি এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে করল, যখন ১১৪ বছরের পুরনো এই স্টক এক্সচেঞ্জ নিজেই ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। পিটিআই রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর শেষ কালীপুজো ও দীপাবলি উদযাপন করেছে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ। মূলত, ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে রেগুলেটরি জটিলতার কারণে সেবি এই স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং সাসপেন্ড করে।
বহু বছর লড়াইয়ের পর, ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ স্বেচ্ছামূলকভাবে স্টক এক্সচেঞ্জ লাইসেন্স থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একসময় বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জকে টেক্কা দিত যে প্রতিষ্ঠান, তার এমন পরিণতি হওয়ায় বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।
কেন এই সিদ্ধান্ত, কী হবে এরপর?
আইটিসি বোর্ড এই ডিলিস্টিং-এর ঘোষণা করেছে কোম্পানির চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের ফলাফলের সঙ্গে। এই ত্রৈমাসিকে আইটিসির কনসোলিডেটেড নেট মুনাফা হয়েছে ৫ হাজার ১৮৬ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। গত বছরের তুলনায় লভ্যাংশ বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি। লাভ বাড়লেও, শেয়ার বাজারের লেনদেনের জন্য ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের উপর ভরসা আর করছে না আইটিসি।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আইটিসির এই পদক্ষেপ ছিল সময়ের অপেক্ষা। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন বন্ধ। এ ছাড়াও বিনিয়োগকারীরা এখন মূলত ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ বা বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করেন। সেবি যদি ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জকে এক্সিট করতে অনুমতি দেয়, তাহলে এই প্রতিষ্ঠান একটি হোল্ডিং কোম্পানি হিসেবে কাজ করবে। এর শাখা সংস্থা CSE Capital Markets Private Limited শুধুমাত্র ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ ও বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য হিসেবে ব্রোকিং ব্যবসা চালিয়ে যাবে।
এই ডিলিস্টিং সত্যি বলতে কি কলকাতা বা গোটা বাংলার অর্থনীতিতে দীর্ঘ ও গৌরবময় অধ্যায়ের ‘প্রতীকী’ সমাপ্তি। আর্থিক লেনদেন বহাল থাকবে, কিন্তু একটি স্বতন্ত্র স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের শেষ হওয়া যেন এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
