
প্রতিমাসে ২৫ হাজার টাকা যদি কেউ জমাতে পারেন, তাহলে সেটা সত্যিই একটা বিরাট বড় ব্যাপার। শৃঙ্খলা মেনে ধারাবাহিক ভাবে এই সঞ্চয় আপনাকে দেশের বেশিরভাগ মানুষের থেকেই অনেকটা এগিয়ে দেবে। আপনার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বাড়ছে দেখলে আপনারও মনটা শান্ত থাকবে। মনে করবেন, সত্যিই আপনার ভবিষ্যৎ আপনার নিয়ন্ত্রণে।
এখানেই একটা অস্বস্তিকর প্রশ্ন আসে। এই সঞ্চয় কি সত্যিই আপনার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে নাকি আপনাকে শুধুমাত্র মানসিক স্বস্তি বা শান্তি দেবে? কারণ আপনি যদি প্রতিমাসে এই টাকা আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমান, তাহলে তা থেকে বছরে ৩ বা ৪ শতাংশ সুদ পাবেন আপনি। আর তেমন হলে ২০ বছর পর আপনার কাছে থাকবে ৯২ লক্ষ টাকার মতো। এই টাকার অঙ্কটা শুনলে আপনার মনে হবে অনেকটা। কিন্তু ২০ বছর পর মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে, সেই টাকার মূল্য দাঁড়াবে আজকের প্রায় ৩০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ, টাকার অঙ্কটা এখানে দেখতে বিশাল। আসলে সেটা বাস্তবে খুব বেশি হবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন টাকা কখনও সঞ্চয় করা উচিত নয়। বরং টাকা সব সময় বিনিয়োগ করা উচিত। কারণ, সঞ্চয় করলে টাকার মূল্য বাড়ে না। উল্টে কমতে থাকে। কারণ, মূদ্রাস্ফীতির হার গড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে থাকে। আর সেই তুলনায় বাড়ে না আপনার টাকা। আজ যদি আপনার মাসিক খরচ ২৫ হাজার টাকা হয় তাহলে ২০ বছর পর তা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৮০ হাজার টাকায়। অন্যদিকে, আপনার সঞ্চয়ের মূল্য তখন কমে যাবে।
এই কারণেই ফিক্সড ডিপোজিটে বা রেকারিং ডিপোজিটে টাকা রাখলে একটু ভাল রিটার্ন পাওয়া যায়। ৬ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে থাকে। ২০ বছরে আপনি এখানে প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ২৫ লক্ষের মধ্যে টাকা পাবেন। যা ২০ বছর পর গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার আশেপাশে। ফলে, আপনি খানিকটা বেশি স্বস্তিতে থাকবেন। কিন্তু টাকা সেভাবে বাড়ল না।
কোথাও বিনিয়োগ করতে চাইলে সেই বিষয়ে যথাযথ তথ্যানুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করুন। এই লেখা শুধুমাত্র শিক্ষাগত উদ্দেশ্যে। TV9 বাংলা বিনিয়োগের কোনও উপদেশ দেয় না।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যে কোনও বিনিয়োগে বাজারগত ঝুঁকি রয়েছে। ফলে, আগে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত নথি সাবধানে পড়ে নেবেন। তারপর বিনিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।