
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। আর সেই বাজেট ঘিরেই তুঙ্গে দেশের মানুষের প্রত্যাশা। বিশেষ করে এই বিষয়ের উপর নজর রেখেছেন মধ্যবিত্ত করদাতারা। তবে কি এবার আয়করে বিরাট কোনও চমক আসছে? আর সেই চর্চার ঠিক কেন্দ্রে রয়েছে ‘জয়েন্ট ট্যাক্সেশন’ বা যৌথ কর ব্যবস্থা।
বিবাহিত দম্পতিরা তাঁদের উপার্জনের উপর আলাদা আলাদা আয়কর রিটার্ন ফাইল না করে তাঁরা একসঙ্গে একটি আয়কর রিটার্ন জমা করতে পারবেন। এটাই হল ‘জয়েন্ট ট্যাক্সেশন’ বা যৌথ কর ব্যবস্থা। বর্তমানে ভারতের প্রত্যেকটা ব্যক্তি আলাদা আলাদা করে কর জমা করেন। অর্থাৎ, ইন্ডিভিজুয়াল ট্যাক্সেশন। আর সেই কারণেই এখনও কোনও দম্পতির সম্পত্তি একত্রে গণনা করার কোনও জায়গা নেই। কিন্তু নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে গোটা পরিবারকে একটি ইউনিট হিসাবে ধরা হবে।
আসলে ভারতের মতো দেশে এখনও অনেক পরিবার এমন রয়েছে যেখান উপার্জন করেন একজন ব্যক্তি। কিন্তু বর্তমান নিয়মে সেই ব্যক্তির উপার পড়ে পুরো করের বোঝা। অন্যদিকে, যিনি উপার্জন করেন না, তাঁর বেসিক কর ছাড়ের সুবিধা নেওয়ার মতো কিছু থাকে না। ফলে, পরিবারের উপর চাপ বাড়ে। আর সেই সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে চালু হতে পারে এই জয়েন্ট ট্যাক্সেশন।
যৌথ কর ব্যবস্থা চালু হলে যে সব পরিবারে একজনই উপার্জনকারী, সেই সব পরিবার সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। দু’জনের উপার্জন একত্রে ধরলে করমুক্ত আয়ের সীমা কার্যত বাড়বে। হোম লোন, স্বাস্থ্য বিমা-সহ বিভিন্ন করছাড় যৌথভাবে কাজে লাগানো যাবে। এতে বছরে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের কর সাশ্রয় সম্ভব। উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে সারচার্জের চাপও কমতে পারে।
আমেরিকা, জার্মানি, স্পেন, পর্তুগালের মতো দেশে বহুদিন ধরেই জয়েন্ট ট্যাক্স রিটার্নের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে পরিবারকে একটি অর্থনৈতিক ইউনিট হিসেবে দেখা হয়। এবার দেখার—ভারতও সেই একই পথেই হাঁটবে কি না?