e

১ ফেব্রুয়ারি সংসদে বাজেট পেশ করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। বাজেটে কোন জিনিসের দাম বাড়ল আর কীসেরই বা দাম কমল, তার বাইরেও অনেক কিছু থাকে। অর্থমন্ত্রী এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেন, যা হয়তও আপনি আগে শোনেননি। কিন্তু সেই সব শব্দের অর্থ তো আপনাকে জানতে হবে।
ইউনিয়ন বাজেট বা কেন্দ্রীয় বাজেট হল সরকারের বার্ষিক আর্থিক বিবরণী। এতে আসন্ন অর্থবর্ষে (এপ্রিল–মার্চ) সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরা হয়।
যে বছর লোকসভা নির্বাচন থাকে, সেই বছর নির্বাচনের আগে পেশ হওয়া অস্থায়ী বাজেটকে বলা হয় অন্তর্বতী বাজেট বা ইন্টারিম বাজেট। নতুন সরকার গঠিত হওয়া পর্যন্ত সরকারি খরচ চালানোর ব্যবস্থা করা হয় এই বাজেটের অধীনেই।
বাজেটের সঙ্গে সংসদে পেশ হওয়া বিলকে বলা হয় ফাইন্যান্স বিল। এই বিলে কর সংক্রান্ত প্রস্তাব ও কর আইনের পরিবর্তনের জন্য অনুমোদন চাওয়া হয়।
ঋণ বাদে সরকারের মোট ব্যয় ও মোট আয়ের পার্থক্যকে বলে রাজস্ব ঘাটতি বা ফিসকাল ডেফিসিট। এটি দেখায় সরকারকে কতটা ঋণ নিতে হবে।
যখন রাজস্ব ব্যয় রাজস্ব আয়ের চেয়ে বেশি হয় তাকে বলা হয় রেভেনিউ ডেফিসিট। এই অবস্থায় নিয়মিত আয় দিয়ে দৈনন্দিন খরচ মেটানো সরকারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ফিসকাল ডেফিসিট থেকে বিভিন্ন সুদের খরচ বাদ দিলে যা থাকে সেটাকে বলা হয় প্রাইমারি ডেফিসিট। এটি অতীতের ঋণের প্রভাব বাদ দিয়ে বর্তমান আর্থিক অবস্থার ছবি দেয়।
দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরির খরচ; যেমন রাস্তা, রেল, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও পরিকাঠামো তৈরির খরচকে বলে ক্যাপেক্স বা ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার। এই খরচ আসলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
দৈনন্দিন খরচ; যেমন কর্মচারীদের বেতন, ভর্তুকি, পেনশন বা ঋণ মেটাতে দেওয়া সুদের টাকাকে বলা হয় রেভেনিউ এক্সপেন্ডিচার। এতে নতুন সম্পদ তৈরি হয় না।
কেন্দ্রের মোট কর আদায়কে বলা হয় গ্রস ট্যাক্স রেভেনিউ। আয়কর, কর্পোরেট কর, জিএসটি, শুল্ক ইত্যাদি বাবদ রাজ্যগুলির অংশ দেওয়ার আগের হিসাব।
রাজ্যগুলির অংশ দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে যে কর রাজস্ব থাকে তাকে বলা হয় নেট ট্যাক্স রেভেনিউ।
অর্থনীতির আকারের তুলনায় কর আদায়ের দক্ষতা মাপার সূচক হল ট্যাক্স টু জিডিপি। এটি দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
সরকারি সংস্থায় সরকারের অংশ বিক্রি করে কর নয় এমন রাজস্ব সংগ্রহকে বলা হয় ডিসইনভেস্টমেন্ট।
ভোক্তার জন্য দাম কমানো বা উৎপাদককে সহায়তা করতে সরকারের আর্থিক সাহায্যকে বলা হয় ভর্তুকি। যেমন গ্যাস বা সারে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে।
একক পরোক্ষ কর ব্যবস্থাকে বলা হয় জিএসটি বা গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স। যা বিভিন্ন কেন্দ্র ও রাজ্য করকে একত্র করেছে। বাজেট আয়ের বড় ভরসা হল জিএসটি।
পূর্ণ বাজেট পাশ হওয়ার আগে সীমিত সময়ের জন্য সরকারি খরচের সংসদীয় অনুমোদনকে বলা হয় ভোট অন অ্যাকাউন্ট। এই খরচ হয় সাধারণত দু’মাসের জন্য।
বাজেট কেমন হল, সেটা শুধুমাত্র কীসের দাম কমল আর কীসের দাম বাড়ল তার উপর নির্ভর করে না। একাধিক বিষয়ের উপর নির্ভর করেই বুঝতে হয় বাজেট আসলে কতটা সাধারণ মানুষের পক্ষে আর কতটা বিপক্ষে। আর সেখানে এই শব্দগুলো যদি আপনার জানা থাকে তাহলেই বাজেটের অঙ্ক, লক্ষ্য ও প্রভাব—সবই পরিষ্কার হয়ে যায়।