e

কেন্দ্রীয় বাজেটের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে দাঁড়িয়ে বাজেট পেশ করবেন দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এই বাজেটকে শুধুমাত্র আগামী অর্থ বছরের আয়-ব্যায়ের হিসাব ভাবলে খুবই ভুল ভাবা হবে। এবারের বাজেট বরং হতে চলেছে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্মারক স্বরূপ। বিশেষত লজিস্টিক্স সেক্টরের ক্ষেত্রে এবারের বাজেট অনেক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
জাপানকে টপকে ইতিমধ্যেই বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসাবে জায়গা করে নিয়েছে আমাদের দেশ। কিন্তু এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে একাধিক বিষয়ের উপর জোর দিতে হবে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে কর্মীদের দক্ষতা ও কার্যক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা। তেমনই রয়েছে উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি করা। আর উৎপাদন, ই-কমার্স, কৃষি ও রপ্তানির নেপথ্যে নীরবে কাজ করে লজিস্টিক্স। উৎপাদিত পণ্য কত দ্রুত, কত নির্ভরযোগ্যভাবে আর কত কম খরচে ক্রেতাদের হাতে পৌঁছচ্ছে, সেটাই এই সেক্টরের আগামীর বৃদ্ধির গতি নির্ধারণ করে।
লজিস্টিক্স সেক্টরের কাজ করে যাওয়ার সবচেয়ে বড় স্তম্ভ হল পরিকাঠামো। দেশের সড়ক, রেল করিডোর, বন্দর বা বিমানবন্দরের পরিকাঠামো যত ভাল হবে, ততই ভাল কাজ করতে পারবে এই সেক্টর। আসন্ন বাজেটে শিল্পাঞ্চল বা কৃষি ও পণ্যের উৎপাদন ক্ষেত্র থেকে দেশের টিয়ার ২ ও টিয়ার ৩ শহরের লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটিতে জোর দেওয়া হলে খরচ কমবে লজিস্টিক্সের। আর এর পাশাপাশি বাড়বে নির্ভরযোগ্যতাও।
দেশের সড়কপথ, রেলপথ, জলপথ ও আকাশপথের মধ্যে সমন্বয় সবার আগে প্রয়োজন। ফলে, এই সমন্বয়ের মাল্টিমোডাল হাব তৈরি করাও বিশেষ প্রয়োজন। আর এর কারণেই এই সেক্টরে ইনসেন্টিভেরও প্রয়োজন রয়েছে।
ব্যবসা করতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন ব্যবসার পরিবেশ। যেখানে প্রয়োজনীয় সব নিয়মকানুন খুব দ্রুত সেরে ফেলা প্রয়োজন। আর সেই কারণেই এই সব কাজে ডিজিটাইজেশন হওয়াও জরুরি। এতে কোনও অনুমতি থেকে প্রয়োজনীয় সব কিছুই খুব দ্রুত হয়ে যায়। এতে উপকৃত হবে সকলেই।
কোনও ব্যবসা বা স্টার্ট আপ শুরু করতে গেলে প্রয়োজন সহজ ঋণ। এ ছাড়াও আধুনিক ফ্লিট ও এআই ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে লজিস্টিক্স ইকোসিস্টেমকে আরও মজবুত করবে।
সব মিলিয়ে এবারে বাজেটে এই সেক্টর নতুন নীতি চাইছে না। বরং যে সব পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে সেই সব পরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়নই সবচেয়ে বেশি জরুরি। আর এবারের বাজেটে সেই পথ আরও পরিষ্কার হবে বলেই আশা করছে বাণিজ্যমহল।