Cyber Fraud: OTP শেয়ার না করলেও টাকা গায়েব হয়ে যাচ্ছে! কী করবেন জেনে নিন
Cyber Safety: ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার সিস্টেম ইনস্টল করেও আপনার ফোন হ্যাক করা যেতে পারে। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোনও জায়গা থেকে কোনও থার্ড পার্টি অ্যাপ ইনস্টল করবেন না। সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করবেন না। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে নিজের কোনও ডিটেলস শেয়ার করবেন না।

– সৌরভ চক্রবর্তী
কলকাতা : এখনকার দিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল ওটিপি বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড। ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট বা কোনও অ্যাপ খোলা, সবেতেই ওটিপি লাগে। আপনার লগ ইন করা মোবাইল নম্বরে ওটিপি যাচাই করার পরেই আপনাকে সেই সার্ভিস ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। কিন্তু যদি আপনার ব্যাঙ্কের ওটিপি আপনি রিসিভ করার পরেই আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হয়ে যায়, তাহলে বিষয়টি খুব চিন্তার। শুধু পাসওয়ার্ড বা ওটিপি কাউকে না জানালেই যে আপনি সুরক্ষিত, এখন সেই যুগ নেই আর। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সাইবার অপরাধীরাও নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে আপনার কোনও ভুল না থাকলেও ফোন বা ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যেতে পারে।
কীভাবে আপনার তথ্য পাওয়া যায়?
এখনকার সাইবার অপরাধীরা ওটিপি হাতানোর জন্য অনেক ভুয়ো পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হল সিম বদল। প্রতারকরা ভুয়ো পরিচয়পত্র দিয়ে বা কোনও প্রতারণামূলক উপায়ে টেলিকম সংস্থার কাছ থেকে একই নম্বরের একটি নতুন সিম সংগ্রহ করে। নতুন সিম সক্রিয় হলে পুরনো সিম নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে । এর পাশাপাশি কল বা SMS নতুন সিমে যেতে পারে।
আরও একটি ঝুঁকি হল SS7 (Signalling System No.7) । এটি মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত একটি সিগন্যালিং সিস্টেম। এর নিরাপত্তাগত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আপনার SMS কে অন্যত্র পাঠানো যায়। এছাড়া ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার সিস্টেম ইনস্টল করেও আপনার ফোন হ্যাক করা যেতে পারে। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোনও জায়গা থেকে কোনও থার্ড পার্টি অ্যাপ ইনস্টল করবেন না।
কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন?
প্রথমত, সম্ভব হলে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে শুধু SMS ভিত্তিক OTP এর উপর নির্ভর না করে অ্যাপ ভিত্তিক 2 Factor Authorization ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি ফোনে SIM PIN ও চালু রাখা যেতে পারে। হঠাৎ কোনও কারণ ছাড়াই মোবাইল নেটওয়ার্ক, কল বা SMS, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত টেলিকম অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নম্বরে কোনও অননুমোদিত পরিবর্তন হয়েছে কিনা, তা যাচাই করুন।
ফোনের Settings > Apps > Permissions বিভাগে গিয়ে কোন অ্যাপ SMS বা নোটিফিকেশন পড়ার অনুমতি পেয়েছে, সেটিও নিয়মিত দেখা দরকার। সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করবেন না। এছাড়া ব্যাঙ্কিং ও ইমেল পরিষেবার সুবিধে থাকলে Passkey বা biometric ভিত্তিক লগইন পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। অজানা লিঙ্কে ক্লিক করা, সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন ও অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে নিজের কোনও ডিটেলস শেয়ার করবেন না। ফোনে অস্বাভাবিক কোন কার্যকলাপ হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙ্ক ও টেলিকম অপারেটরকে জানান।
