
কলকাতা: রামসার জলাভূমিতে একের পর এক তৈরি গোডাউন বর্তমানে বারুদের স্তূপ। নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ড প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। বেআইনি নির্মাণ নিয়ে ১৪ বছরে ৩৫৯টি এফআইআর-ই করেছে প্রশাসন। রামসার জলাভূমিতে একের পর এক গোডাউন। উপগ্রহ চিত্র নিয়ে সিএজি রামসার জলাভূমি নিয়ে পরিবেশ আদালতে বারবার রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
জাতীয় পরিবেশ আদালত থেকে বারবার রাজ্য প্রশাসনকে এবং পরিবেশ দফতরকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছে। কিন্তু তারপরেও এই গোডাউনগুলিকে নিয়ে যে কোন রকম পদক্ষেপ রাজ্য প্রশাসন করেনি এবং সেগুলির অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে কোন অডিট যে হয় না, তার প্রমাণ হল নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়।
সিএজি রিপোর্টে বলা হয়েছে, রামসার জলাভূমির প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ জলভূমি ভরাট করে ফেলা হয়েছে, তখন নিজেদের উন্নয়ন খাত থেকে অর্থ ব্যয় করে স্থায়ী হোর্ডিং বোর্ড লাগিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। এমনকি রিপোর্টে বলা হয়েছে, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি রক্ষা করা সাধারণ মানুষের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। এই জলভূমি বুজিয়ে নির্মাণ তৈরি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
সিএজি’র তথ্য অনুযায়ী, একের পর এক লোহার কাঠামো হোক বা কংক্রিটের নির্মাণ, জলাশয় ভরাট করে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় একাধিক ইমারত। যা রক্ষা করার কর্তব্য রাজ্য সরকারের থাকলেও, বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই দেখেনি।
সিএজির তথ্য বলছে, জলাশয় ভরাট করার অপরাধে বিগত ১৪ বছরে ৩৫৯টি এফআইআর থানায়। শুধুমাত্র থানায় অভিযোগ জানিয়েই ক্ষান্ত থেকেছে রাজ্য প্রশাসন এবং কলকাতা পুরসভা।
খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নির্দেশে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জলসম্পদ বিভাগ এবং রাজ্য সরকারের বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের যৌথ উদ্যোগে গত এক বছর ধরে শহরে পুকুরের সমীক্ষার কাজ চালিয়েছিল। পুরসভায় জমা করা সেই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, রামসার জলাভূমির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যে জলাশয় ভরাট হতে হতে ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে। ঐতিহ্যশালী এই জলাভূমির জায়গা প্লট প্লট করে বেআইনিভাবে বিক্রি করা হয়েছে। বছরখানেক আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক এই ‘রামসার সাইট’কে ২০২৬-এর মধ্যে সম্পূর্ণ জবরদখলমুক্ত করা হবে বলে টার্গেট নিয়েছে রাজ্য সরকার।
১২ হাজার ৫০০ হেক্টরের এই এলাকার জন্য ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি। কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দিয়ে রাজ্য জানিয়েছে, আগামী চারবছরে জলাভূমি-সহ গোটা এই এলাকাকে বেআইনি নির্মাণ মুক্ত করে পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব করা হবে। সিদ্ধান্ত হলেও আদৌ কার্যকর করা সম্ভব অথবা আর সেটা কতদিনের সম্ভব তা নিয়ে কিন্তু বিস্তর প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।
আনন্দপুরের দগ্ধ গোডাউনের বিরুদ্ধেও এই অভিযোগ উঠেছে। এটাতেও সুজিতের উত্তর, “এটা ভূমি দফতর নিশ্চয়ই দেখবে। যাঁদের দেখার দায়িত্ব, তাঁরা দেখবে।” তিনি বলেন, “ডিজির সঙ্গে কথা বলেছি। অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থার মতো এখানে কিছু ছিল না। আমরা এখানে সেরকম কিছু দেখতে পাইনি। আমাদের ফায়ার অডিট হয়। এখানে ফায়ার অডিট হয়েছিল কিনা, এটা আমাদের দেখার দরকার রয়েছে। সেটা তদন্ত করব। প্রত্যেকটা কেসে তদন্ত হয়। এখানে ফরেনসিক টিম আসবে। এফআইআর হবে, তদন্তও হবে।”