
পূর্বস্থলী: এসআইআর আবহে সিএএ-তে আবেদনের তিন মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেল পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর এক পরিবার। সিএএ-তে আবেদন করে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেলে এসআইআর শুনানিতে সেই নথি গ্রাহ্য হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ফলে এসআইআর শুনানির মধ্যে নাগরিকত্ব শংসাপত্র পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে পূর্বস্থলীর দাস পরিবার। ওই পরিবার সিএএ-তে আবেদন করে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে বিজেপি।
গত বছরের অক্টোবরে পূর্বস্থলীর কালেখাতলা পঞ্চায়েতের বড়গাছি গ্রামের সবুজ দাস (৩৭) CAA তে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। মা, ভাই ও স্ত্রীর ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্যও সিএএ-তে আবেদন জানিয়েছিলেন সবুজ। গত ৮ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে তিনি একটি মেল পান। তাঁর নাগরিকত্ব শংসাপত্র প্রস্তুত বলে তাতে জানানো হয়। পরের দিন কলকাতায় নিদিষ্ট দফতরে পৌঁছে যান সবুজ।নাগরিকত্বের হার্ড কপি পোস্ট মারফত বাড়িতে পৌঁছে যাবে জানানো হয়। তবে অনলাইন থেকে একটি প্রতিলিপি তাঁকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের অন্যরাও ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়ে যাবে বলে জানানো হয়।
ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়ে খুশির হওয়া সবুজের পরিবারে। খুশি এলাকায় বসবাস করা বাংলাদেশ থেকে আসা অন্যরাও। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলায় বসবাস করত সবুজ দাসের পরিবার।অত্যাচারের ভয়ে সবুজ ও তাঁর ভাইকে নিয়ে ভারতে চলে আসেন তাঁর বাবা চাঁদমনি দাস এবং মা চন্দ্রতারা দাস। পূর্বস্থলীর বড়গাছি গ্রামের মাঝের পাড়ায় দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে বসবাস করছেন তাঁরা। সবুজের বাবা মারা গিয়েছেন। তাঁদের ভোটার, আধার কার্ড রয়েছে। কিন্তু SIR শুরু হতেই দুশ্চিন্তায় পড়েন সকলে। কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা মতো CAA-তে আবেদন করে সবুজ সহ তাঁর পরিবার।
ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পর সবুজ দাস বলেন, “ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়ে খুব খুশি। অনেকে বলছিলেন, এসআইআর নাম কাটা যাবে। সেই ভয় নেই এখন।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “সিএএ-তে আবেদন প্রক্রিয়া খুবই সহজ। কোনও সমস্যা হয়নি। এখন নাগরিকত্ব পেয়ে পরিবারের সবাই খুশি।” সবুজের মা বলেন, “চট্টগ্রামে থাকতাম। ওখানে খুব অত্যাচার হত। সেজন্যই চলে আসি।” ওই এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশ থেকে আসা পরিবারগুলিকে সিএএ-তে আবেদনের জন্য অনুরোধ জানায় সবুজের পরিবার। বাংলাদেশ থেকে আসা বেশ কয়েকটি পরিবার জানাল, এবার তারাও সিএএ-তে আবেদন করবে।
এসআইআর আবহে সিএএ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বেড়েছে রাজ্যে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের প্রচারের জন্যই বহু মানুষ সিএএ-তে আবেদন করেননি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁদের নাম না ওঠার জন্য তৃণমূলকেই দায়ী করছে তারা। স্থানীয় বিজেপি নেতা দীপঙ্কর পাল বলেন, “সিএএ নিয়ে রাজ্যের শাসকদল মিথ্যা অপ্রপ্রচার করছে।সেই প্রলোভনে পা না দিয়ে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে আবেদন করুন।” অন্যদিকে, তৃণমূলের বুথ সভাপতি সুধীর মণ্ডল বলেন, সবুজ দাস ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তা তাঁরা জানেন না।