e

হুগলি: বিধানসভা নির্বাচনের আগে হুগলিতে দলবদলের হাওয়া। জেলার সপ্তগ্রাম, মগড়া, বাঁশবেড়িয়া অঞ্চলের এক সময়ের দাপুটে তৃণমূলের যুব নেতা দেবব্রত বিশ্বাস ফের ফিরলেন রাজ্যের শাসকদলে। তৃণমূলে ফিরেই জানালেন, বিজেপিতে তাঁকে মন থেকে আপন করে নেওয়া হয়নি। তাই পুরনো দলে ফিরে এসেছেন। তাঁর তৃণমূলে ফেরা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ল না গেরুয়া শিবির। বিজেপির বক্তব্য, এই ধরনের নেতারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া কিছু ভাবেন না।
২০২১ সালে বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন দেবব্রত ওরফে দেবু। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর দলবদল অবাক করেছিল তৃণমূল নেতৃত্বকে। তিনি চুঁচুড়া মগড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছিলেন ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। তারপর থেকে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য বাড়ছিল।
দেবুর লোকবল, তাঁর অনুগামীর সংখ্যার জন্য জেলা রাজনীতিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল ভালোই। ২০২১
সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে সপ্তগ্রাম বিধানসভার প্রার্থী হন। কিন্তু বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তপন দাশগুপ্তর কাছে প্রায় দশ হাজার ভোটে পরাজিত হন। বিজেপিতে থাকাকালীন তাঁকে হুগলি লোকসভার কো-কনভেনার পদ দেওয়া হয়। নিরাপত্তার জন্য সিআরপিএফ দেওয়া হয়।
সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই পুরনো দলের দিকে ঝুঁকছিলেন দেবু। বিজেপির কর্মসূচিতে সেইভাবে তাঁকে দেখা যাচ্ছিল না। অতি সম্প্রতি মগড়ায় শুভেন্দু অধিকারীর এক কর্মসূচিতে বিজেপি জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব স্পষ্ট হয়। বিধানসভার বিরোধী দলনেতার মিছিলে অনুগামীদের নিয়ে ঢুকতে গেলে বাধা দেওয়া হয় তাঁকে। তারপর আর বিজেপির কর্মসূচিতে দেবুকে দেখা যায়নি।
বরং তৃণমূলের সঙ্গে দেবু গোপনে যোগাযোগ রাখছিলেন বলে জানা যায়। সিঙ্গুরে দলীয় কর্মিসভায় এলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেদিন সাক্ষাৎ হয়নি।
দলের শীর্ষস্তর থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই শুক্রবার তৃণমূলের হুগলি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অরিন্দম গুঁইন, বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত, চেয়ারপার্সন অসীমা পাত্র, যুব সভানেত্রী প্রিয়াঙ্কা অধিকারীদের হাত ধরে পুরোনো দলে ফেরেন দেবব্রত। তৃণমূলে যোগ দিয়ে দেবব্রত বলেন, “কিছু ভুল বোঝাবোঝির কারণে তৃণমূল ছেড়েছিলাম। কিন্তু, বিজেপি কোনওদিন আপন করে নেয়নি। কোনও কর্মসূচিতে ডাকত না। আমি কর্মসূচি নিলে তার পাল্টা ঘোষণা করত।”
দেবব্রতর দলবদল নিয়ে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউয়ের জবাব, “এই ধরনের মানুষ কোনও দলের হয় না। ব্যক্তিস্বার্থের কথাই ভাবে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই তাঁকে দল প্রার্থী করেছিল। কো-কনভেনার করে নিরাপত্তা দিয়েছিল। আবার কী দেবে?”
একুশের নির্বাচনে দেবু যাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন, সেই তপন দাশগুপ্ত এদিন বলেন, “আমার সঙ্গে লড়াই করে ভালো ফাইট দিয়েছিল। দলের ছেলে দলে ফিরে এসেছে। ও সাধারণ কর্মীদের মন বোঝে, সমাজসেবা করে।” দেবব্রতর তৃণমূলে ফেরা নিয়ে শাসকদলের জেলা সভাপতি অরিন্দম গুঁইন বলেন, “দেবব্রত বিশ্বাস তৃণমূল ঘরানারই ছেলে। তাই ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে। আমাদের আনন্দ। পতাকা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমরা ওকে দলে ফিরিয়ে নিলাম।” দেবব্রত কি বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হবে? দেবুর উত্তর, “দল যে দায়িত্ব দেবে, সেটা মেনে চলব। কী হবে সেটা দল বুঝবে।”