SIR in Bengal: ২ দিন আগে স্বামীর মৃত্যু, সাদা থান পরে শুনানিকেন্দ্রে প্রৌঢ়া

Hooghly: শুনানিকেন্দ্রে সদ্য বিধবা পাপিয়াকে দেখা গেল কখনও একমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। কখনও বসে পড়ে নথিগুলিতে সই করে চলেছেন। স্বামীর কথা জানতে চাওয়ায় বলেন, "আমার স্বামীর শ্বাসকষ্ট ছিল। সেই শ্বাসকষ্ট থেকে রবিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তবু আমাকে আসতে হল।"

SIR in Bengal: ২ দিন আগে স্বামীর মৃত্যু, সাদা থান পরে শুনানিকেন্দ্রে প্রৌঢ়া
শুনানিকেন্দ্রে সদ্য বিধবা প্রৌঢ়াImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Jan 28, 2026 | 8:10 AM

শ্রীরামপুর: ৪৮ ঘণ্টাও হয়নি স্বামীকে হারিয়েছেন। সেই শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তারই মধ্যে এসআইআর-র শুনানিকেন্দ্রে সাদা থান পরে লাইনে দাঁড়াতে হল প্রৌঢ়াকে। ঘটনাটি হুগলির শ্রীরামপুরের। সদ্য বিধবাকে এভাবে শুনানিকেন্দ্রে আসতে হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল।

রিষড়া কেসি সেন রোড, আম্বেদকর সরণির বাসিন্দা পাপিয়া সাহা রায়। শ্রীরামপুর বিধানসভার ২৭০ নম্বর বুথের ভোটার তিনি। গত রবিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর স্বামী মানব রায়ের। মঙ্গলবার সাদা থানা পরে এসআইআর শুনানিতে হাজির হলেন পাপিয়া। তাঁর শুনানি যাতে দ্রুত হয়, সেজন্য ব্যবস্থা করে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

শুনানিকেন্দ্রে সদ্য বিধবা পাপিয়াকে দেখা গেল কখনও একমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। কখনও বসে পড়ে নথিগুলিতে সই করে চলেছেন। স্বামীর কথা জানতে চাওয়ায় বলেন, “আমার স্বামীর শ্বাসকষ্ট ছিল। সেই শ্বাসকষ্ট থেকে রবিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তবু আমাকে আসতে হল। আমাকে বলেছিল, ভাইকে পাঠাতে। কিন্তু, ভাইয়েরও তো হিয়ারিং রয়েছে। ভাই বলল, দিদি আমি কোন জায়গায় যাব? তুই চলে যা। কাউকে বলবি, যেন তাড়াতাড়ি তোকে ছেড়ে দেয়। তাই আমি এসেছি।”

হিয়ারিংয়ের নোটিস অবশ্য কয়েকদিন আগে তিনি পেয়েছিলেন। কিন্তু, স্বামীর মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুনানিকেন্দ্রে আসা নিয়ে তিনি বলেন, “কী করব? হয়রানির শিকার হচ্ছি। এদিন না এলে তো আমাকে অন্য তারিখ দেবে না। এটা তো নয় যে কাজ হয়ে গেলে তারপর আসব। আমাকে হিয়ারিংয়ের তারিখ কয়েকদিন আগে জানিয়েছিল। সেইসময় আমার স্বামী বলেছিল, তোমার সঙ্গে আমি যাব। কিন্তু, তার আর আমার সঙ্গে আসা হল না।” বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন তিনি।

পাপিয়া সাহা রায়

এই নিয়ে কমিশনকে কটাক্ষ করে তৃণমূল কাউন্সিলর সুখসাগর মিশ্র বলেন, “এরকমটা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। ২ দিন আগে যাঁর স্বামী মারা গিয়েছেন, তাঁকেও হিয়ারিংয়ের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। আমরা বিষয়টা দেখে, বিএলও-কে জানিয়ে তাঁর হিয়ারিং দ্রুত করার ব্যবস্থা করেছি। তবে কমিশন হিয়ারিং নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানছে না।”