
নয়াদিল্লি: বিজেপির কাছে বাংলা কার্যত ফাইনাল ফ্রন্টিয়ার। একুশের নির্বাচনে দুশো পারের স্লোগান দিয়েও লক্ষ্যভেদ হয়নি। সেসব জানেন তিনি। তাঁর পূর্বসূরিরা নানা চেষ্টা করেছেন। বাংলায় ভোট বেড়েছে। কিন্তু, মসনদ দখল হয়নি। সর্বভারতীয় বিজেপির হাল ধরে সেটাই করতে চাইছেন গেরুয়া শিবিরের সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি নিতিন নবীন। মঙ্গলবার দায়িত্ব নিয়েছেন। আর বুধবারই বিজেপির সব রাজ্যের সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন তিনি। সেখানে বিশেষ করে নজর দেওয়া হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ভোটমুখী রাজ্যগুলিকে।
এদিন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বছর পঁয়তাল্লিশের নিতিন নবীন। বিজেপির সাংগঠনিক ইতিহাসে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি। বিজেপি অবশ্য বলছে, বয়সে নবীন হলেও রাজনীতিতে অভিজ্ঞ নিতিন। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামিকাল (বুধবার) সব রাজ্যের দলের সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন তিনি। মূলত পশ্চিমবঙ্গ সহ যে রাজ্যগুলিতে নির্বাচন আসন্ন, সেই রাজ্যগুলির সংগঠনিক প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখেই বৈঠক।
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে আপাতত বিজেপির মূল লক্ষ্য আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। গতকালই পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেছেন নবীন। আর এদিন শপথ নেওয়ার পর বুধবার সব রাজ্যের সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রাজনৈতিক মহল বলছে, জাতীয় রাজনীতিতে আগামিদিনে বিজেপির চলার পথ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নির্বাচনমুখী রাজ্যে অন্য রাজ্যের নেতাদের ভূমিকা এবং কাজ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বৈঠকে।
এই বৈঠকে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে নিতিনের কী কথা হয়, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। বাংলায় ফাইনাল ফ্রন্টিয়ার জয়ে নিতিন নবীনের নেতৃত্বে বিজেপি কী রণকৌশল নেয়, সেটাই এখন দেখার। বিজেপির এই বৈঠককে কটাক্ষ করেছে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূলের রাজ্য সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “এই রকম বৈঠক তো বিজেপির এর আগের সভাপতিরাও করেছেন। বাংলা জয়ের কথা বলেছেন। কিন্তু কিছুই হয়নি।”
অন্যদিকে আগামিকাল নয়াদিল্লিতে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন আরএসএস নেতারা। সমন্বয় বৈঠকে নির্বাচনের আগে বিজেপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।