SIR in Bengal: ইস্তফা, পেন ডাউন শয়ে শয়ে BLO-র, ১৪ ফেব্রুয়ারি কি বেরবে না SIR তালিকা?

BLOs resign: ওয়াকিবহাল মহল বলছে, বিএলও-রা কাজ না করলে হিয়ারিং প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, বিএলও-রা চিহ্নিত না করে দিলে ভোটারদের চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। ফলে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অসম্ভব হয়ে যেতে পারে। একটি ব্লকেই একশোর বেশি বিএলও গণইস্তফা দিলে স্বাভাবিকভাবে অসুবিধা হবে।

SIR in Bengal: ইস্তফা, পেন ডাউন শয়ে শয়ে BLO-র, ১৪ ফেব্রুয়ারি কি বেরবে না SIR তালিকা?
কেন বিএলও-রা পদত্যাগ করছেন?Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Jan 17, 2026 | 12:45 PM

কলকাতা: শেষ পর্যায়ে এসআইআর প্রক্রিয়া। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তার আগে বিএলও-দের অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। অতিরিক্ত কাজের চাপের অভিযোগ তুলে আগেই সরব হয়েছিলেন বিএলও-দের একাংশ। এবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিএলও-র দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে ইস্তফা দিচ্ছেন বিএলও-রা। এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে বিএলও-দের ইস্তফা ঘিরে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিএলও-দের ইস্তফায় এসআইআর প্রক্রিয়া ধাক্কা খাবে না তো? কমিশন এই পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ করবে? বিএলও-দের ইস্তফার পিছনে রাজনৈতিক কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়েও চাপানউতোর বেড়েছে।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলও-দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ৪ নভেম্বর থেকে এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু করেন বিএলও-রা। কাজের চাপে একাধিক বিএলও-র মৃত্যু ও আত্মহত্যার অভিযোগ ওঠে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে অবস্থান বিক্ষোভ করেন বিএলও-দের একাংশ। এবার রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিএলও-রা কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়ে ইস্তফা দিচ্ছেন।

শনিবারই উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা ব্লকে প্রায় ২০০ জন বিএলও পেন ডাউন করেছেন। অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধ করে দিলেন। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের একের পর এক নির্দেশিকার জেরে তাঁদের হয়রানি ও হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিএলও-রা বিডিও দফতরের সামনে গেট আটকে বিক্ষোভও দেখান। বিএলও-দের দাবি, নতুন নতুন নির্দেশিকায় দিশেহারা তাঁরা। কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। এর আগে গতকাল উত্তর ২৪ পরগনারই স্বরূপনগরে ৫৩ জন বিএলও গণইস্তফা দেন। জেলায় জেলায় বিএলও-দের অসন্তোষ বাড়ছে। মৌখিক নির্দেশে কাজ করতে গিয়ে হেনস্থা হতে হচ্ছে বলে বিএলও-দের অভিযোগ। ইস্তফা দিতে চেয়ে ৫ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে সূত্রের খবর।

বিএলও-দের এই গণইস্তফায় কি এসআইআর-র কাজ বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে? কী বলছে কমিশন? যদিও কমিশনের দাবি, ৮০ হাজারের বেশি বিএলও এসআইআর-র কাজ করছেন। তাতে কয়েকজন বিক্ষোভ দেখালে কিংবা অব্যাহতি চাইলে অসুবিধা হবে না। পরিস্থিতি সামাল দেবেন ডিইও (জেলাশাসক)। জেলাশাসকদের কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, বিএলও-রা কেন ইস্তফা দিতে চাইছেন, তা তদন্ত করে দেখতে পারেন জেলাশাসকরা। সত্যিই কোনও কাজে বিএলও-রা অব্যাহতি চাইছেন, নাকি এর পিছনে উস্কানিমূলক মন্তব্য রয়েছে। ফলে চিঠি দিলেই যে অব্যাহতি মিলবে, এমনটা নয়।

ওয়াকিবহাল মহল বলছে, বিএলও-রা কাজ না করলে হিয়ারিং প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, বিএলও-রা চিহ্নিত না করে দিলে ভোটারদের চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। ফলে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অসম্ভব হয়ে যেতে পারে। একটি ব্লকেই একশোর বেশি বিএলও গণইস্তফা দিলে স্বাভাবিকভাবে অসুবিধা হবে।

বিএলও ঐক্য মঞ্চের দাবি, কেউ উস্কানি দিচ্ছে কি না দেখা হোক। বিএলও ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মণ্ডল বলেন, “প্রায় ৮৪ হাজার বিএলও কাজ করছেন। বিএলও-দের কিছু অভিযোগ তো ঠিক। ঠিকঠাক ফর্ম পূরণের পরও হিয়ারিংয়ে ডাকা হচ্ছে। কিন্তু, বিশেষ বিশেষ জায়গায় বিক্ষোভ হচ্ছে। এটা তদন্ত করে দেখা দরকার।” এই নিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “উস্কানি তো একমাত্র রয়েছে কমিশনের। তারা কেন নতুন নতুন নিয়ম চালু করছে? আমার এক আত্মীয় একবার শুনানির পর আবার তাঁকে শুনানিতে ডেকেছে। তাঁকে বলছে, নতুন ডকুমেন্ট লাগবে। উস্কানি তো কমিশন ও বিজেপি দিচ্ছে।” রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “অন্যান্য রাজ্যে বিএলও-রা কাজ করছেন। এখানে বিএলও-দের একাংশ কেন বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তা কমিশন দেখুক।”