Malda: তৃণমূল বিধায়ককে হারানোর চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর, সেই কেন্দ্রেই প্রার্থী মৌসম?
Mausam Benazir Noor: রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, গত বিধানসভা ভোটের সময় এনআরসি ইস্যুকে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল। এবারে মোহভঙ্গ হয়েছে মুসলিমদের। এরই মধ্যে মৌসম নূর কংগ্রেসে ফিরে সেই পরিবারকেই সামনে রেখেছেন। পরম্পরার কথা বলেছেন। মানে আবার ভোটের স্বার্থে গনি খান চৌধুরীকে ফিরিয়ে এনেছেন।

মালদহ: কয়েকদিন আগেই তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরেছেন মৌসম বেনজির নূর। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেন বলে জল্পনা বাড়ছে। কংগ্রেসে ফিরে কোনও আসনে প্রার্থী হতে পারেন তিনি? রাজনৈতিক মহলের জল্পনা, উত্তর মালদহের মালতীপুর কিংবা রতুয়া বিধানসভা থেকে দাঁড়াতে পারেন মৌসম। সূত্রের খবর, মালতীপুরকেই পছন্দের প্রথম সারিতে রাখা হচ্ছে। কারণ মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী। যিনি তৃণমূলের মালদহ জেলা সভাপতি। শুধু তাই নয়, মৌসম তৃণমূলে থাকাকালীন দু’জনের অবস্থান ছিল দুই বিপরীত মেরুতে।
মৌসমের মালতীপুরে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আরও একটি জল্পনা শুরু হয়েছে। কয়েকদিন আগে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আব্দুর রহিম বক্সীকে চ্য়ালেঞ্জ ছুড়েছিলেন। চাঁচলের সভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, আব্দুর রহিম বক্সীকে যদি তৃণমূল মালতীপুরে প্রার্থী করেন, তবে তিনি তাঁকে হারাবেন। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলেছিলেন, “মালতীপুরে কে জিতবে আমি জানি না। তবে রহিমকে আমি জিততে দেব না। ওকে যদি তৃণমূল মালতীপুরে প্রার্থী করে তাহলে হারাব। কোন মন্ত্রে হারাতে হয় আমি জানি।” ফলে মৌসমের মালতীপুরে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনার পিছনে অন্য সমীকরণও দেখছেন কেউ কেউ। ২০১৯ সালের মৌসমের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পিছনে শুভেন্দুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আবার মৌসম কংগ্রেসে ফিরে আসার পর তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র আশিস কুন্ডু দাবি করেন, শুভেন্দুর কথাতেই কংগ্রেসে ফিরেছেন মৌসম। ফলে মৌসমের মালতীপুরে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে।
কংগ্রেসের টার্গেট মুসলিম ভোটে থাবা। গনি পরিবারের প্রতি চরম দুর্বলতা আছে মালদহের মানুষের। বিশেষ করে মুসলিমদের। গনি খানের মৃত্যুর পরও ভোটের বাজারে তিনি তাই ফিরে ফিরে এসেছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, গত বিধানসভা ভোটের সময় এনআরসি ইস্যুকে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল। এবারে মোহভঙ্গ হয়েছে মুসলিমদের। এরই মধ্যে মৌসম নূর কংগ্রেসে ফিরে সেই পরিবারকেই সামনে রেখেছেন। পরম্পরার কথা বলেছেন। মানে আবার ভোটের স্বার্থে গনি খান চৌধুরীকে ফিরিয়ে এনেছেন। যা সামনে রেখে জেলা কংগ্রেস বরাবরের ভোট এবং বিশেষ করে সেই মুসলিম ভোটকেই ধরতে মরিয়া।
কংগ্রেসের অস্ত্র তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলও। মালদহ বরাবর কংগ্রেসের গড়। জেলায় কংগ্রেস নিজেদের পথ মসৃণ করতে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলকে ব্যবহার করতে পারে। যেহেতু তৃণমূলে এখনও একটা বড় অংশ মৌসম গোষ্ঠীর, যাঁদের মধ্যে অনেকেই জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে দলীয় পদে বহাল। তাঁরা কি তৃণমূলের অন্দরে ফাটল ধরাবেন? উঠছে প্রশ্ন। তবে তৃণমূল বলছে, মৌসমের দল ছেড়ে যাওয়াতে কিছু এসে যায় না। ভোট হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে। এসবের মাঝে মৌসমের ভোটে দাঁড়ানো নিয়েই চর্চা বাড়ছে।
