Mausam Noor: মৌসমের দলবদলের পিছনে আসলে ছিলেন ইনি? বড় দাবি করল তৃণমূল
Congress:অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি, পুলিশ দিয়ে ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে যেভাবে ভোট লুঠ করেছিল তৃণমূল, তা দেখেই আতঙ্কিত হয়ে মৌসম তৃণমূলে যোগ দেয়। ভেবেছিল কংগ্রেসে থাকলে লোকসভায় জিততে পারবে না। প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি মোস্তাক আলম বলেন, "লুঠ আর অত্যাচার ছাড়া তৃণমূলের আর কিছু নেই। এটা মানুষ বুঝেছে। অনেকদিন হয়েছে। এবার তৃণমূল জবাব পাবে।"

মালদহ: সদ্যই মালদহে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন মৌসম নূর। কিন্তু সেই সব পাঠ চুকিয়ে আবারও দলবদল করে ফিরেছেন কংগ্রেসে। কিন্তু কেন এই বদল? মৌসম গতকালই জানিয়েছিলেন পুরো পরিবার একসঙ্গে মিলে লড়াই করবেন সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত। তবে তৃণমূল বলছে অন্য কথা। মৌসমকে কংগ্রেসে নিয়ে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিস্ফোরক দাবি করলেন মালদা জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র আশিস কুন্ডু। তাঁর আরও দাবি, শুভেন্দু অধিকারীই মৌসমকে তৃণমূলে আনেন। কংগ্রেসের ভরাডুবি দেখে তৃণমূলকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সুবিধা নেন। তৃণমূল তাঁকে জেলা সভাপতি করে, রাজ্যসভার সাংসদ করে। কিন্তু এখন আবার শুভেন্দু অধিকারীর কথাতেই তিনি কংগ্রেসে যোগদান করেছেন। বস্তুত, এই আশীস কুণ্ডু এক সময় শুভেন্দু অধিকারী ও মৌসম নূর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন।
আশীস বলেন, “সারা বাংলার মানুষ উত্তাল হয়ে আছে তার ভোটারধিকার থাকবে কি থাকবে না। তবে এই নিয়ে একটা কথাও মৌসমের মুখ থেকে শোনা যায়নি। তাঁর রাজ্যসভার টার্ম যেই শেষ হতে যাচ্ছে অমনি আর একটা দরজা দিয়ে পালিয়ে গেলেন। আবার পিছনের দরজা দিয়ে হয়ত সোনিয়াদিকে ভুল বুঝিয়ে সাংসদ হবেন। আগে এই শুভেন্দুর হাত ধরে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন মৌসম। সেইদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভুল বুঝিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হলেন আর সুবিধা নিতেন। এরা সুবিধাবাদী।”
তবে মৌসম নূরের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে যে তৃণমূল যে আতঙ্কিত, তা স্পষ্ট। এই নিয়ে এখনও কোন তৃণমূল নেতা মৌসমের বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না। তৃণমূল ছেড়ে মৌসম চলে যাওয়ায় জেলা তৃণমূল অনেকটাই ফিকে। দলে যাঁরা মৌসমের অনুগামী, তাঁরা নিজেদের গোষ্ঠী কোন্দলে সামিল হয়ে গোপনে কংগ্রেসকেই সাহায্য করবে কি না তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। সূত্রের খবর, এই নিয়ে তৃণমূলের বৈঠকও হয়েছে। নিজের নিজের গোষ্ঠীর লোকজন নিয়েও আলাদা আলাদা গোপন বৈঠক হচ্ছে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি, পুলিশ দিয়ে ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে যেভাবে ভোট লুঠ করেছিল তৃণমূল, তা দেখেই আতঙ্কিত হয়ে মৌসম তৃণমূলে যোগ দেয়। ভেবেছিল কংগ্রেসে থাকলে লোকসভায় জিততে পারবে না। প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি মোস্তাক আলম বলেন, “লুঠ আর অত্যাচার ছাড়া তৃণমূলের আর কিছু নেই। এটা মানুষ বুঝেছে। অনেকদিন হয়েছে। এবার তৃণমূল জবাব পাবে।”
এদিকে মালদহ জেলার বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী হোক বা বিজেপি, তৃণমূল নেতারাই বলছেন তাঁদের এত ক্ষমতা যে তারা কংগ্রেস, তৃণমূল স্ব দলকেই নিয়ন্ত্রণ করছে। যাঁকে খুশি এই দল ছেড়ে অন্য দলে নিয়ে যেতে পারে নেতাদের দাবার গুটির মতো। তাহলে তো ভারতের জনতা পার্টির জয়। আসলে ওরা ভয় পেয়েছে।”
