
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগেই লক্ষ্মীর ভান্ডারে ৫০০ টাকা বাড়িয়েছে রাজ্য সরকার। বিজেপি আরও বেশি টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নতুন দল গঠন করে হুমায়ুন কবীরও বলছেন, ক্ষমতায় এলে তাঁরা মহিলাদের আরও বেশি টাকা দেবেন। পিছিয়ে রইলেন না সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও। এবার তিনিও প্রতিশ্রুতি দিলেন, বামপন্থীরা ক্ষমতায় এলে আরও বেশি দেওয়া হবে। কীভাবে তা সম্ভব হবে, তাও জানিয়ে দিলেন। একইসঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপিকে খোঁচা দিলেন তিনি।
রবিবার সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সেলিম। সেখানে বৃন্দা কারাতের লেখা ‘রীতা হয়ে ওঠা’ বইয়ের উদ্বোধন করেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “মেয়েদের শিক্ষার জন্য আজও লড়তে হয়। স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ছে। তার মানে অল্প বয়সে বিয়ে। অল্প বয়সে সন্তান। কুসংস্কার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে। মেয়ে পাচার বেড়ে যাচ্ছে। ড্রপ আউট কমানোর জন্য স্কুল, কলেজের মেয়েদের পরিবহণ ফ্রি করা যেতে পারে।”
আর এই অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্পের সমালোচনা করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। তিনি জানান, কেরল ২৫ বছর আগে কুটুম্বশ্রী চালু করেছে। মমতা সরকারের সব ‘শ্রী’ টুকলি বলে কটাক্ষ করেন। এরপরই রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে তিনি বলেন, “মহিলাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁদের মজুরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কাজ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রান্না-বান্নার খরচ বেড়ে গিয়েছে। ফলে আয় কমে গিয়েছে। ব্যয় বেড়ে গিয়েছে। এখন নির্বাচন যেহেতু পার হতে হবে, এজন্য বিজেপি হোক কিংবা তৃণমূল এসব করে। এগুলোকে বলে মন ভোলানো। কিন্তু, এটা অধিকার নয়। আমরা চাই, এগুলো অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। তামিলনাড়ু ২ হাজার দিচ্ছে। কেরল দিচ্ছে। অন্যান্য রাজ্য দিচ্ছে। এখানে যেন মনে হচ্ছে, এটাই বিশাল ভান্ডার। অর্পিতার খাটের নিচ থেকে যেটা বেরিয়েছিল সেটা ভান্ডার। মন্ত্রীদের ঘর থেকে যেটা বেরিয়েছে সেটা ভান্ডার। ৫০০, ১০০০, ১৫০০ টাকা দিয়ে ভান্ডার কেন বলছে? লুঠ করেছে ভান্ডার। দিচ্ছে ক্ষুদ্র জরিমানা।”
এরপরই বুকে আঙুল ঠেকিয়ে সেলিম বলেন, “বামপন্থীরা আসলে এর থেকে অনেক বেশি দিতে পারব। কারণ, দুর্নীতি বন্ধ করতে পারব। আমরা সার্ভে করেছি, কত মহিলা পাননি। ওরা বলেছে, আমাদের মিছিলে এসো, তবে ভাতা দেব। আমরা অধিকারবোধ তৈরি করতে চাই।”
বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূল প্রায়ই বলে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। এই নিয়ে এদিন সেলিম বলেন, “যোগীরাজ্যে যা যা হচ্ছে, সবই তো এ রাজ্যে হচ্ছে। ব্রিগেডে প্যাটিস বিক্রির জন্য মারধর থেকে শুরু করে গণপিটুনি, সবই তো হচ্ছে। মোদী এবং মমতা ভয় দেখান। তারপর বলেন, আমি ছাড়া তোমাদের কে বাঁচাবে। তারপর তাঁরাই মারেন।”
কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। এদিন সেলিম জানিয়ে দিলেন, ১ মার্চ থেকে সিপিএম নির্বাচনী প্রচার শুরু করবে। সিপিএমের ইস্তাহার নিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের জন্য যেমন ইস্তাহার তৈরি হবে। তেমনই জেলাভিত্তিক ও বিধানসভাভিত্তিক ইস্তাহার হবে। একইসঙ্গে জানালেন, অন্যবারের থেকে এবার মহিলা প্রার্থী বেশি থাকবে সিপিএমের।