
কলকাতা: এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলায় বাড়ছে রাজনৈতিক তরজা। খসড়া তালিকা থেকে শুনানি, নানা ‘ভুল’ সামনে এসেছে। জীবিত ভোটারকে মৃত দেখানো হয়েছে। শুনানিতে ভোটারদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সবমিলিয়ে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। এই আবহে মাইক্রো অবজার্ভারদের দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ কড়া সতর্কবার্তা জারি করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলে কমিশন জানিয়ে দিল।
একাধিক জেলায় SIR শুনানির সময় মাইক্রো অবজার্ভারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মাইক্রো অবজার্ভাররা তাঁদের নির্ধারিত কাজ ঠিকভাবে পালন করেননি। ভোটারদের জমা দেওয়া নথি, স্বাক্ষর ও পরিচয় যাচাইয়ে ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণে আরও জানা গিয়েছে, ডিজিটাল এনুমারেশন ফর্ম যাচাই, জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে ভোটার তালিকার মিল, দাবি ও আপত্তি সংক্রান্ত নথি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও গাফিলতি রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মাইক্রো অবজার্ভারদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনওরকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ বার্তা দিয়েছে কমিশন।
কয়েকদিন আগে বারুইপুরের সভা থেকে জীবিত ভোটারদের মৃত দেখানো নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন ‘মৃত’ ভোটারকে মঞ্চেও তুলেছিলেন। এবার ওই তিন ভোটারকে কীভাবে ‘মৃত’ দেখানো হল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিএলও-দের শোকজ করতে বলল কমিশন। এই নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইচ্ছাকৃত ভুল নাকি অন্য কোনও কারণে ভুল, শোকজ করে বিএলও-দের কাছে জানতে চাওয়ার নির্দেশ দিল কমিশন।