
কলকাতা: ছাব্বিশের নির্বাচনে বাম-কংগ্রেসের জোটের সম্ভাবনা কতটা? প্রশ্নটা অনেকদিন ধরেই উঠছে। বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের ইঙ্গিতে স্পষ্ট, তাঁরা বামেদের সঙ্গে জোটে এই মুহূর্তে আগ্রহী নয়। ফলে বাম-কংগ্রেস জোটের সম্ভাবনা যখন ক্ষীণ, এই অবস্থায় শুক্রবার অন্য এক ছবি ধরা পড়ল। মহাত্মা গান্ধী প্রয়াণ দিবসে বেলেঘাটার গান্ধী ভবনে গিয়ে গান্ধী মূর্তি মাল্যদান করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করলেন বাম নেতারা। সম্প্রীতি ও সংহতি দিবস পালন করল। বাম নেতাদের গান্ধী ভবনে যাওয়া নিয়ে নতুন করে বাম-কংগ্রেস জোট জল্পনা শুরু হয়েছে।
এদিন গান্ধী ভবনে গান্ধী মূর্তিতে মাল্যদান করেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র, রবীন দেব। সঙ্গে ছিলেন আরএসপি-র অশোক ঘোষ। গান্ধী ভবনে সম্প্রীতি ও সংহতি দিবস পালন করে বামেরা। অনেকদিন পর সূর্যকান্ত মিশ্রকে কোনও কর্মসূচিতে দেখা গেল। বাম-কংগ্রেস জোট এখন প্রশ্নের মুখে। তাহলে হঠাৎ করে এদিন কেন বামেদের গান্ধীর স্মরণাপন্ন হতে হচ্ছে? ভোটের জন্যই কি? উঠছে প্রশ্ন।
এই নিয়ে বামেদের কটাক্ষ করেছে গেরুয়া শিবির। রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “শুধু গান্ধীজী নয়, বিবেকানন্দ নয়। শ্যামাপ্রসাদেরও পুজো করতে হবে বামেদের অস্তিত্ব বাঁচানোর জন্য। হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বসে বামেরা মিটিং করছেন। সময় খারাপ এসেছে, সব করতে পারে বামেরা।” বামেদের কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “এরা সবকিছুই প্রথমে বিরোধিতার নজরে দেখে। এরা স্বামীজিকে ভণ্ড সন্ন্যাসী বলেছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বুর্জোয়া কবি বলেছিল। আর এখন রবীন্দ্রসঙ্গীত ছাড়া কিছু শুনতে পায় না। ভোটের জন্য এরা সবকিছু করতে পারে।”
তবে এই নিয়ে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “মহাত্মা গান্ধীর ভাবনা তো বামপন্থী ভাবনা। গান্ধীর ভাবনার সঙ্গে অনেকের ফারাক থাকতে পারে। কিন্তু, গান্ধীর আদর্শের সঙ্গে বামপন্থী আদর্শের তো খুব বেশি ফারাক নেই। গান্ধীজি জনসেবার কথা বলেছেন, গরিবের কথা বলেছেন। গান্ধীজিকে পৃথিবীর যত বেশি মানুষ স্মরণ করবে, তত বেশি পৃথিবীর মঙ্গল হবে।”
গান্ধীজিকে স্মরণ নিয়ে কটাক্ষের জবাব দিয়ে প্রবীণ সিপিএম নেতা রবীন দেব বলেন, “বেলেঘাটায় গান্ধীজি আরও প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে বেলেঘাটায় গান্ধীজি যেসময় এসেছিলেন দাঙ্গা থামানোর জন্য। এখন যারা দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে গান্ধীজি যে কথাগুলি বলেছিলেন, সেগুলি যদি আমি ব্যবহার করি, তাতে যদি দেশের শান্তি-ঐক্য-সম্প্রীতি হয়, তাতে কার আপত্তি থাকতে পারে। আমরা নাথুরাম গডসকে খুনি বলি। আর যারা সরকার পরিচালনা করছে, তারা তাকে গৌরবান্বিত করছে। এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্যটা বোঝানোর জন্য, গান্ধীজির হত্যা দিবসে বামপন্থীরা আগেও ছিল, আজও থাকবে।”
এদিন বামেদের গান্ধীজিকে স্মরণ নিয়ে ফের জোট জল্পনা শুরু হয়েছে। ২০১৬ এবং ২০২১ সালে বামেরা কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিল। অধীর চৌধুরীও বামেদের সঙ্গে জোট নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু, বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বামেদের সঙ্গে জোট নিয়ে ততটা আগ্রহী নন। কিছুদিন আগে মৌসম নূর কংগ্রেসে ফিরে আসার পর বামেদের সঙ্গে তাঁদের জোট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শুভঙ্কর বলেছিলেন, “আমরা এখন নিজেদের উদ্বুদ্ধ করতে চাইছি।” শুভঙ্করের মনোভাব বুঝেই একদিন আগে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছিলেন, “অধীর চৌধুরী সভাপতি থাকাকালীন বাম-কংগ্রেস আসন সমঝোতা হয়েছিল। বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের তৃণমূলের প্রতি বেশি দরদ। শুভঙ্কর সরকার নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, AICC-র অপেক্ষায় রয়েছেন।”