Abhishek Banerjee: ছাব্বিশে বিজেপি ৫০-র নিচে নামলে কেন্দ্রে কী হবে? বলে দিলেন অভিষেক
Abhishek Banerjee slams BJP Parivartan Yatra: কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, "ব্রিটিশরা যেভাবে ভারতকে শাসন করত, অত্যাচার করত, নরেন্দ্র মোদীর সরকার বাংলার মানুষের উপর তেমন অত্যাচার করছে। আমাদের ছাড়লে চলবে না। যে ভাষা যে বোঝে, তাকে সেই ভাষাতেই জবাব দিতে হবে। বাংলাই আগামিদিনে ভারতকে পথ দেখাবে। খুঁটিপুজোটা ছাব্বিশের নির্বাচনে হবে।"

কলকাতা: দোরগোড়ায় বিধানসভা ভোট। ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলের নজরে তফসিলি জাতি উপজাতি অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রগুলি। এই আবহে সোমবার তপসিলির সংলাপ কর্মসূচি নিয়ে দলের সংগঠকদের সঙ্গে নজরুল মঞ্চে বৈঠক করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষের উপর হামলা নিয়ে সরব হলেন তিনি। একইসঙ্গে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা নিয়ে কটাক্ষ করলেন। ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির আসন সংখ্যা ৫০-র নিচে নামাতে পারলে ২০২৯ সালের আগেই কেন্দ্রে সরকার বদল হবে বলেও দাবি করলেন।
রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, রাজ্যের ১০০টির বেশি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্ণায়ক শক্তি তফসিলি জাতি উপজাতির ভোটাররা। তাঁদের কাছে পৌঁছে যেতে চব্বিশের নির্বাচনের আগেও এই কর্মসূচি নিয়েছিল তৃণমূল। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগেও ফের তপসিলির সংলাপ কর্মসূচিতে এদিন দলের নেতা-কর্মীদের বার্তা দিলেন অভিষেক। তিনি বলেন, “বিজেপি তফসিলিদের জন্য কী কী অসুবিধা সৃষ্টি করছে, তফসিলিদের প্রতি বিজেপি নেতাদের আচরণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলে ধরতে হবে। আর মমতা সরকার তফসিলিদের জন্য কী কী উদ্যোগ নিয়েছে, তা তুলে ধরতে হবে।” তিনি বলেন, “আমাদের সরকার রাজ্যের তফসিলি মহিলাদের মাসে ১৭০০ টাকা দিচ্ছে। বছরে ২০ হাজার ৪০০ টাকা। পাঁচ বছরে এক লক্ষ দু’হাজার টাকা আপনারা পাবেন।”
রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৮৪টি আসন তফসিলি জাতি ও উপজাতি প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত জানিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের আগামী ২ মাস প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। অভিষেক বলেন, “মাঠ-ময়দান ছেড়ে বাড়িতে বসে থাকলে হবে না। বুথে বাড়ি বাড়ি যান। মানুষকে বোঝান। যদি ভাবেন, ৪০ হাজার ভোটে জিতবেন। সেটা ৫০ হাজার করুন। আপনারা খালি মাঠে ময়দানে থাকবেন। যতটুকু ঘুম, খাবার দাওয়ারের সময়টুকু ছাড়া আগামী ২ মাস বাংলা মায়ের জন্য দিতে হবে। দলের জন্য দিতে হবে। রাজ্যের জন্য দিতে। একটা বুথে যদি একজন লোকও বিজেপিকে ভোট দেন, তাঁকে বোঝাবেন যে যা দরকার, তৃণমূল আপনার পাশে দাঁড়াবে। এলাকায় যা লাগবে, তালিকা তৈরি করুন, আমার সামর্থ্য অনুযায়ী করে দেব। মানুষকে বোঝান, বিজেপিকে ভোট দেওয়া আর খাল কেটে কুমির আনা এক।”
এরপরই তিনি বলেন, “এমনভাবে লড়াই করতে হবে, এদের ৫০-র নিচে নামাতে হবে। আমার মনে হয় না, যদি বাংলায় বিজেপি ৫০-র নিচে নামে, তাহলে এদের সরকার উনত্রিশ পর্যন্ত থাকবে।”
SIR নিয়েও এদিন বিজেপিকে নিশানা করেন অভিষেক। বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে যে বিচারপতির অধীনে এসআইআর মামলা বিচারাধীন রয়েছে, ভোটার তালিকায় তাঁর নামের বানান ভুল। যাদের জোর জবরদস্তি আন্ডার অ্যাডজুড়িকেশন করে রেখে দিয়েছে, বাংলার মানুষ তাদের আন্ডার অ্যাডজুড়িকেশন মে-তে করবে। ৬০ লক্ষ মানুষকে বিনা কারণে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন করে রেখেছে। এরাই ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচন করেছে। সাধারণ মানুষের মনে তো প্রশ্ন উঠছে, এই ৬০ লক্ষ মানুষ যদি আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে থাকে, তাহলে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে থাকবে না? এরা ভাবছে, মানুষের নাম বাদ দিয়ে ক্ষমতায় আসবে। আপনার ক্ষমতা থাকলে এই অ্যাডজুডিকেশনে থাকা ৬০ লক্ষের নাম বাদ দিয়ে দেখান। আপনারা থাকবেন রথে, আর তৃণমূল কংগ্রেস থাকবে পথে।”
কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, “ব্রিটিশরা যেভাবে ভারতকে শাসন করত, অত্যাচার করত, নরেন্দ্র মোদীর সরকার বাংলার মানুষের উপর তেমন অত্যাচার করছে। আমাদের ছাড়লে চলবে না। যে ভাষা যে বোঝে, তাকে সেই ভাষাতেই জবাব দিতে হবে। বাংলাই আগামিদিনে ভারতকে পথ দেখাবে। খুঁটিপুজোটা ছাব্বিশের নির্বাচনে হবে।”
বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা নিয়েও এদিন খোঁচা দেন অভিষেক। চোর-চিটিংবাজদের এই রথ যাত্রা বলে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “কাল থেকে রথ যাত্রা শুরু করেছে বিজেপির বাবুরা। ফাল্গুন মাসে রথ হয় এই প্রথম শুনলাম। যাদের মাঠে থাকার কথা। তারা রথে চড়ে নিদান দিচ্ছে। ৭০টা বিধায়ক পেয়ে রথ। আর বেশি আসন পেলে কী করত। চার তলা রথ বানাত।” দলের কর্মীদের বলেন, “আপনার এলাকা দিয়ে যখন রথ যাবে, তখন এদের একটু মাছ, মাংস খাওয়াবেন। না খেলে না খাবে। এটা আমাদের আথিথেয়তা।” বিজেপিকে তোপ দেগে তিনি বলেন, “ওরা রথ করছে। রথ যত্ন করে রাখতে বলুন। ওই রথেই উল্টো রথ হবে। ওই রথেই ফিরে যেতে হবে।” ২৫০ আসন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
