
নন্দীগ্রাম: বিধানসভা নির্বাচনের আর একশো দিনও বাকি নেই। তার আগে নন্দীগ্রামে একটি সমবায় নির্বাচনে সবুজ-ঝড় দেখা গেল। শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্রে সমবায় নির্বাচনে তৃণমূলের দাপটে উড়ে গেল বিজেপি। নন্দীগ্রাম দুই ব্লকের আমদাবাদ সমবায়ের ডিরেক্টর নির্বাচনে সব আসনে জিতলেন রাজ্যের শাসকদলের অনুগামীরা। খাতাই খুলতে পারল না গেরুয়া শিবির। সমবায় ভোটে জয়ের পর সবুজ আবিরে পরস্পরকে রাঙিয়ে দেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূলই জিতবে বলে ঘাসফুল শিবিরের দাবি।
রবিবার আমদাবাদ সমবায় সমিতির ১২টি আসনে নির্বাচন হয়। এদিন সকাল থেকেই টানটান উত্তেজনার মধ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। আমদাবাদ ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের এই আমদাবাদ সমবায় সমিতিতে মোট ভোটার ৯০০ জন। তৃণমূল, বিজেপি এবং সিপিআইএম- এই তিনটি দলই ১২টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। আমদাবাদ কলেজে সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ফলাফল শেষে দেখা যায়, ১২টি আসনের সবগুলিতেই জয়ী হয়েছেন তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে সমবায় নির্বাচনে তৃণমূলের এই জয় তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
ফলাফল বেরনোর পর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের যুব তৃণমূল সভাপতি রবীন জানা বলেন, “ভোটার ও দলের কর্মীদের ধন্যবাদ জানাই। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর পতন শুরু হয়েছে। এই সমবায় ভোট সেটা প্রমাণ করল। শুভেন্দু অধিকারীকে নন্দীগ্রাম বর্জন করছে। আমাদের নেতা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে সেবাশ্রয় খুলেছেন, তার ফল আজ থেকে মানুষ বুঝিয়ে দিচ্ছেন। নন্দীগ্রামে জয় হবে তৃণমূলের।”
বিজেপির নন্দীগ্রাম ৫ নম্বর মণ্ডলের সহ-সভাপতি দিলীপ পাল বলেন, “এখানে তৃণমূল ও সিপিএম মিলেমিশে এতদিন সমবায় চালাচ্ছিল। সিপিএম-ও ১২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। কিন্তু, রাতে গিয়ে সবাইকে তৃণমূলে ভোট দিতে বলে এসেছে।” ভোটগ্রহণের আগে সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য রামহরি পাত্র দাবি করেছিলেন, নন্দীগ্রামে এই অঞ্চলে তাঁদের সংগঠন অন্য জায়গার থেকে মজবুত। ভোটে সিপিএম ভাল ফল করবে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। ফল ঘোষণার পর অবশ্য সিপিএমের এখনও কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।