
ভাতার: একুশের নির্বাচনে সাড়া ফেলেছিল তৃণমূলের ‘খেলা হবে’ স্লোগান। ছাব্বিশের নির্বাচনে নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা না হলেও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে দিয়েছেন, এবারের খেলার নাম হবে ‘ফাটাফাটি’। আর সেই ‘ফাটাফাটি খেলার’ এবার পাল্টা দিলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প যাত্রায় তিনি বলে দিলেন, এবার তৃণমূল একা খেলবে না। বিজেপিও খেলবে। শুধু তাই নয়। তাঁর হুঙ্কার, “পেনাল্টিতে কীভাবে গোল করতে হয়, দেখিয়ে দেব।”
মমতার ‘ফাটাফাটি খেলা হবে’-র পাল্টা দিয়ে এদিন মিঠুন বলেন, “আপনি বলছেন, খেলা হবে। বড় খেলা হবে। বুঝলাম বড় খেলা হবে। বড় খেলা হবে মানে কী? আগেরবার বিজেপি কর্মীদের ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। মেরেছেন। গণহত্যা করেছেন। এবার কী করবেন? গলা কেটে দেবেন? আর যখন বলছেন, খেলা হবে। তখন মনে রাখবেন, এবার আপনি একা খেলবেন না। আমরাও খেলব। আমরা ২ জনে খেলব। আর পেনাল্টিতে কীভাবে গোল করতে হয় দেখিয়ে দেব।” পর্দার ‘মহাগুরু’-র এই কথা শুনে হাততালির ঝড় উঠে জনসভায়।
এদিন মিঠুন আরও বলেন, “আইপ্যাক অফিসে ইডি রেড করেছে। ইডি, সিবিআই মানে বিজেপি নয়। এটা অন্য সংস্থা। এটা এই প্রশাসন আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। ইডি, সিবিআই চোরেদের বাড়িতেই রেড করে। আপনার কিসের এত ভয়? ফাইলে কী ছিল? নিশ্চয় কিছু চুরি করেছেন। কীভাবে পশ্চিমবাংলাকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানাবেন, তার পরিকল্পনা ছিল ওই ফাইলে? আমার গায়ে এক ফোঁটা রক্ত থাকলে কেউ পশ্চিম বাংলাদেশ বানাতে পারবে না।”
এদিন ভাতারের সভা থেকে বিজেপির নেতা-কর্মীদের একসঙ্গে কাজ করারও বার্তা দেন মিঠুন। তিনি বলেন, “সবাই একসঙ্গে এবার ইলেকশন লড়বেন। নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য থাকলে মিটিয়ে নিন। একসঙ্গে নির্বাচনে লড়ুন।” তিনি আরও বলেন, “বিজেপি ও তৃণমূলের জোট আছে বলে গুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কোনও জোট নেই। বিজেপি একা লড়ছে সমস্ত পার্টির বিরুদ্ধে। বিজেপি ছাড়া কোনও বিকল্প নেই। আমরা ভারতীয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে নই। যারা এদেশে থেকে বিরোধ করে তাদের বিরুদ্ধে।”