BJP: শমীকের জমানায় ঘোষিত হল BJP-র রাজ্য পদাধিকারীদের নাম, কাদের গুরুত্ব বাড়ল?
BJP state office bearers: বিজেপির রাজ্য পদাধিকারীদের তালিকা ঘোষণার পর কাদের গুরুত্ব বাড়ল, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় দিলীপ ঘনিষ্ঠ। অনেকদিন রাজনীতির মূল স্রোতে দেখা যাচ্ছিল না তাঁকে। সহসভাপতি পদে রাখা হল তাঁকে। একসময় শমীক রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র ছিলেন। তাঁর জায়গায় প্রধান মুখপাত্রের দায়িত্ব পেলেন দেবজিৎ সরকার। সহসভাপতি পদে এসেছেন রাহুল সিনহা ঘনিষ্ঠ অমিতাভ রায়।

কলকাতা: মাস ছয়েক আগে রাজ্য বিজেপির ব্যাটন ধরেছেন। বঙ্গ বিজেপির সভাপতি হয়েই দলে নতুন-পুরনোদের সমান গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেন তিনি। সেই শমীক ভট্টাচার্যর জমানায় বিজেপির রাজ্য পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা হল বুধবার। পদাধিকারীদের তালিকাতে নতুন-পুরনো ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করল বঙ্গ বিজেপি। কেউ কেউ পদ হারালেন। আবার তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা তাপস রায়ের মতো নেতা পদাধিকারী হলেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ বিজেপিতে কাদের গুরুত্ব বাড়ল? বঙ্গ বিজেপির এক ব্যক্তি এক পদের নীতি কতটা কার্যকর হল নতুন পদাধিকারীদের তালিকায়?
বঙ্গ বিজেপি এদিন যে রাজ্য পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করেছে তাতে স্বাভাবিকভাবেই সভাপতি রয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। সহসভাপতি পদে রয়েছেন ১২ জন। দেবশ্রী চৌধুরী, অগ্নিমিত্রা পাল, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দীপক বর্মণ, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, মনোজ টিগ্গা, নিশীথ প্রামাণিক, তনুজা চক্রবর্তীদের সহসভাপতি করা হয়েছে। তৃণমূল থেকে বিজেপি আসা তাপস রায়ও সহসভাপতি হয়েছেন। আগে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দীপক বর্মণ, অগ্নিমিত্রা পাল। বিজেপি সূত্রে খবর, তাঁরা বিধানসভা ভোটে লড়বেন। সেই কারণেই সরানো হল সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে।
নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ৫ জন। ওই ৫ জনের মধ্যে রয়েছেন জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, লকেট চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র খাঁ। নতুন কমিটিতে সম্পাদক পদে বড় বদল হয়েছে। ১২ জন সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সেই ১২ জনের মধ্যে শঙ্কর ঘোষ ছাড়া কোনও বিধায়ক নেই। আগের কমিটিতে সম্পাদক পদে ছিলেন ৬ বিধায়ক। শঙ্কর ঘোষ, গোপালচন্দ্র সাহা, গৌরীশঙ্কর ঘোষ, অশোক দিন্দা, লক্ষ্মণ ঘোড়ুই, বিমান ঘোষ। তাহলে কি শঙ্কর ঘোষকে এবার প্রার্থী করা হবে না। বিজেপি সূত্রে খবর, শঙ্কর ঘোষ ভোটে লড়বেন। সম্পাদক হিসেবে তাঁর পারফরম্যান্সের জন্যই এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বিজেপিতে। সম্পাদক পদে ১২ জনের মধ্যে তিনজন পুরনো। বাকি ৯ জন নতুন। সম্পাদক পদ থেকে সরেছেন প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল, উমেশ রাই। দু’জনেই ভোটে লড়তে পারেন। তাই তাঁদের সম্পাদক পদ থেকে সরানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এসটি মোর্চার সভাপতি ছিলেন জুয়েল মুর্মু। তিনি হবিবপুরের বিধায়ক। তাঁকে সরানো হল। এসটি মোর্চার সভাপতি হলেন খগেন মুর্মু। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনশল এক ব্যক্তি এক পদের নীতি ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর সফল রূপায়ণের জন্যই এই সিদ্ধান্ত কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।
বিজেপির রাজ্য পদাধিকারীদের তালিকা ঘোষণার পর কাদের গুরুত্ব বাড়ল, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় দিলীপ ঘনিষ্ঠ। অনেকদিন রাজনীতির মূল স্রোতে দেখা যাচ্ছিল না তাঁকে। সহসভাপতি পদে রাখা হল তাঁকে। একসময় শমীক রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র ছিলেন। তাঁর জায়গায় প্রধান মুখপাত্রের দায়িত্ব পেলেন দেবজিৎ সরকার। সহসভাপতি পদে এসেছেন রাহুল সিনহা ঘনিষ্ঠ অমিতাভ রায়। সহসভাপতি পদ থেকে সরলেন জগন্নাথ সরকার। তনুজা চক্রবর্তী একদা মহিলা মোর্চার সভানেত্রী ছিলেন। তারপর থেকে কার্যত হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। আবার মূল স্রোতে এলেন তনুজা। সংখ্যালঘু মোর্চা সভাপতি করা হয়েছে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ আলি হোসেনকে। যিনি দিলীপ ঘোষ জমানায় সক্রিয় ছিলেন। মিডিয়া কোকনভেনর করা হয়েছে চন্দ্রশেখর বাসুটিয়াকে। নবীন-প্রবীণ ও পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে পদাধিকারীদের বেছে নেওয়া হয়েছে বলে রাজ্য বিজেপি নেতাদের বক্তব্য।
