
কলকাতা: এসআইআর-র হিয়ারিংয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তুলে সরব রাজ্যের শাসকদল। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এসআইআর হিয়ারিংয়ে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রাহ্য না হওয়া নিয়ে কমিশনকে তোপ দাগলেন তিনি। শুক্রবার শিলিগুড়ি যাওয়ার পথে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে কমিশনকে তিনি নিশানা করেন। কেন মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে হিয়ারিংয়ের জন্য নথি হিসেবে গ্রাহ্য করা হবে না, সেই প্রশ্ন তোলেন।
এসআইআর-র জন্য ১৩টি নথির উল্লেখ করেছিল নির্বাচন কমিশন। এরপর মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না, তা নিয়ে কমিশনে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল রাজ্যের সিইও দফতর। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালকে চিঠি দিয়ে কমিশন জানিয়ে দেয়, এসআইআর-র নথি হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রাহ্য হবে না।
এদিন শিলিগুড়ি যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কমিশনকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকেই জন্ম শংসাপত্র হিসেবে আমরা গ্রহণ করি। আজ ২ মাস বাদে হঠাৎ করে যদি বলে, আবার নতুন করে চ্যাপ্টার খোলো, এটা গ্রহণ হবে না। সুপ্রিম কোর্ট বলা সত্ত্বে বলছে, আধার কার্ড গ্রহণ হবে। অনেক জেলায় জনজাতিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ডোমিসাইল সার্টিফিকেট সব জায়গায় গ্রহণ করা হচ্ছে, বাংলায় বলছে হবে না। ভোট কি তাহলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ২ জন মিলে করবেন? আর বিজেপি মিলে। তাহলে তো এক শতাংশ ভোটারও থাকবে না।”
এরপরই তিনি বলেন, “প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপে নোটিস পাঠাচ্ছে। এই ২ মাসে ২০০ বার নোটিস এসেছে। বিএলও-রা চাপে পাগল হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০০ জনের মতো লোক মারা গিয়েছে। কী সাংঘাতিক পরিস্থিতি। এরা ইচ্ছে করে বাংলায় দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। বিজেপির প্ল্যান এটা। নিজেরা ভোটে পারবে না। তাই ঘোঁট পাকাচ্ছে। যাদের হিয়ারিংয়ে ডাকবে বা নাম বাদ দেবে, তারা ফর্ম জমা করুন। কোর্টে মামলা হয়েছে। আদালতের উপর ভরসা রাখুন।”
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা করে মমতা বলেন, “অন্য কোনও রাজ্যে হচ্ছে না এগুলো। অন্য রাজ্যে সব কিছু অ্যালাউ করা হচ্ছে। শুধু বাংলার বেলা কিছু অ্যালাউ নয়। চেয়ারের মর্যাদা রক্ষা করুন। চেয়ারের নিরপেক্ষতা রক্ষা করুন। মানুষ আপনাকে সম্মান জানাবে।” একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব। এই লড়াই চলছে, চলবে। আগামিদিনে আরও জোরদার হবে।”