SIR in Bengal: ডাক পেয়ে শুনানিতে বিজেপি বিধায়ক, কী বললেন স্বপন মজুমদার?
BJP: স্বপন মজুমদারকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেছেন, "কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা বিদ্বেষী। বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। বিজেপির নেতারা এসআইআর করার জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন। আর আজকে হিয়ারিংয়ের লাইনে দাঁড়িয়ে বিজেপি বিধায়ককে প্রমাণ করতে হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশি মানুষ কি না। মনে হচ্ছে, তাঁর নামটা কাটা যাবে।"

বনগাঁ: হিয়ারিংয়ে ডাক পেয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দুই পুত্র। শুনানির নোটিস পেয়েছেন প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক ক্রান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। এই নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে দুই দলই। আর শুনানিতে ডাক পেয়ে পাল্টা জবাব দিলেন বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদার। শুক্রবার শুনানিকেন্দ্রে উপস্থিত হন তিনি। প্রয়োজনীয় নথি দেখান। তারপরই রাজ্যের শাসকদলকে কটাক্ষ করেন তিনি।
কেন হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদারকে?
২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই বনগাঁ দক্ষিণের স্বপন মজুমদারের। তাঁর বাবার নামও নেই ওই ভোটার তালিকায়। তাই ডাক পড়েছে শুনানিতে। এদিন বনগাঁ ব্লকের পাল্লা গ্রাম পঞ্চায়েতের এসআইআর-র শুনানির কাজ হচ্ছে বনগাঁ মাদ্রাসাতে। দুপুরে বিজেপি বিধায়ক শুনানিকেন্দ্রে আসেন । নিজে কাগজপত্র জমা করেন শুনানি টেবিলে। এই বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার বলেন, “২০০২ সালের আগে থেকে আমি কর্মসূত্রে মুম্বইতে ছিলাম। সেই কারণে আমার ভোট ছিল না। ২০০২ সালের আগে আমার বাবার মৃত্যু হয়। সেই কারণে ম্যাপিং হয়নি।”

স্বপন মজুমদার
স্বপন মজুমদারকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেছেন, “কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা বিদ্বেষী। বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। বিজেপির নেতারা এসআইআর করার জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন। আর আজকে হিয়ারিংয়ের লাইনে দাঁড়িয়ে বিজেপি বিধায়ককে প্রমাণ করতে হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশি মানুষ কি না। মনে হচ্ছে, তাঁর নামটা কাটা যাবে। আমরা বারবার বলেছি, স্বপন মজুমদার, অশোক কীর্তনিয়া বাংলাদেশে। চোরাপথে বাংলাদেশ থেকে এসেছে এখানে কাউকে বাবা বানিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। যদি অসৎ পথ অবলম্বন না করেন, তাঁদের নাম বাদ যাবে। বাংলাদেশে যেতে না হলে আমাদের কাছে আসবেন, আমরা ওদের পাশে থাকব।”
বাংলাদেশ থেকে আসা নিয়ে স্বপন মজুমদার বলেন, “এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই যে আমার বাবা-মা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। ১৯৮০ সালে তাঁরা আসেন।” এসআইআর প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, “এসআইআরের কাজ ভালই হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গকে রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। তার জন্য এসআইআর দরকার।” তাঁর নাম কাটা গেলে ভোটে দাঁড়াতে পারবেন কি না, এই নিয়ে বিজেপি বিধায়ক বলেন, “নাম কাটা যাবে কেন? তার কোনও যুক্তি আছে। তৃণমূল ওই আশায় ঘুম কামাই করুক। হিয়ারিংয়ে তো বহু মানুষকে ডাকা হয়েছে। তার মানে সবার নাম থাকবে না, এমনটা নয় তো।” মতুয়াদেরও এসআইআর নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই বলে তিনি মনে করেন। তাঁর পরিবারের ৬ জনকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে বলে জানান।
