
নয়া দিল্লি: এসআইআর-এর শুনানিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড কি আদৌ গণ্য? নির্বাচন কমিশনের তাতে নেতিবাচক মনোভাব। অর্থাৎ কমিশনের বেঁধে দেওয়া ১২ টি নথির মধ্যে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নেই। কিন্তু রাজ্যের দাবি, এমন বহু মানুষ রয়েছে, যাঁরা কেবল শুনানিতে অ্যাডমিট কার্ডই দিতে পেরেছেন। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চে বাংলার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সুপ্রিম কোর্ট মৌখিকভাবে অ্যাডমিট কার্ডকে গণ্য করার কথা বলে, তবে লিখিত অর্ডারে তা উল্লেখ থাকে না।
রাজ্যের বক্তব্য, কেন মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য হবে না? কারণ মাধ্য়মিকের অ্যাডমিট কার্ডে বয়সের উল্লেখ থাকে। শীর্ষ আদালতে এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। কল্যাণ আদালতে জানান, কত মানুষ এমন রয়েছেন, যাঁরা কেবল শুনানিতে অ্যাডমিট কার্ডই দিতে পেরেছেন। তখন সুপ্রিম কোর্ট জানতে চায় সংখ্যাটা কত? আগামী শুনানিতে এই সংখ্যাটা নিশ্চিত করে জানানো হবে বলে আইনজীবী জানান।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড সমস্ত সরকারি স্তরে গ্রহণযোগ্য নথি। এই অ্যাডমিট কার্ডকেই জন্মের শংসাপত্রের সমান্তরাল হিসাবে গণ্য করা হয়। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, বিচারপতিরা তাঁদের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক পরিকাঠামো তাঁরা জানেন। আজকে আদালত এই বিষয়টিকে বিবেচনার মধ্যে রেখেছে। কিন্তু কোনও সুনির্দিষ্ট নির্দেশ এখনও সুপ্রিম কোর্টের তরফে দেওয়া হয়নি।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, বোর্ডের ইস্যু করা অ্যাডমিট কার্ডের একটি বৈধতা থাকে—যদি তা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সেটিকে গ্রহণ করতেই হবে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তও মৌখিকভাবে বলেন যে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করতেই হবে, কারণ রেজাল্ট কার্ডে জন্মতারিখ উল্লেখ থাকে না। তাঁর পর্যবেক্ষণ, “পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শিক্ষা পর্ষদের অ্যাডমিট কার্ডেই জন্মতারিখ উল্লেখ করে, সার্টিফিকেটে নয়। যদি কেবল সার্টিফিকেটই চাওয়া হয়, তাহলে তাতে জন্মতারিখ থাকবে না। সেই কারণে আপনাকে অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করতেই হবে।”
অ্যাডমিট কার্ড আগামী দিনে নথি হিসাবে গণ্য হবে কিনা, সেটা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের অপেক্ষা। এ বিষয়ে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওরা বলছিল অ্যাডমিট কার্ড নেওয়া হবে না। কিন্তু আমরা বলেছি, বাংলার মধ্যে এটা নেই। অ্যাডমিট কার্ডের মধ্যেই ডেট অফ বার্থ রয়েছে, সার্টিফিকেটে থাকে না। বিচারপতিরা তা মেনেও নিয়েছেন। বাঙালি বিচারপতি ছিলেন, তাঁরা বোঝেন, বাংলায় কোন সার্টিফিকেটে কী থাকে। “ যদিও কল্যাণকে আরেক জায়গায় বলতে শোনা যায়, “কমিশনকে বলেছে গ্রহণ করতে, যদি না করে আবার আদালতে চলে যাব।”