
পানাজি : গোয়ায় বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। আগামী মাসেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে গোয়ায়। তার আগে নিজেদের প্রচারে ব্যস্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি। কিছু কিছু রাজনৈতিক দল জোর দিচ্ছে ধর্মের ভিত্তিতে প্রচারের উপর। এই আবহে গোয়ার বিভিন্ন ধর্মস্থানে গেলেন কংগ্রেস প্রার্থীরাও। তবে তাঁদের উদ্দেশ্য প্রচার ছিল না। তাঁরা গেলেন গোয়ার জনগণ ও দলের প্রতি “বিশ্বস্ত” থাকার প্রতিজ্ঞা করলেন। নির্বাচনের প্রাক্কালে ঠিক এমনই অভিনব ছবি ফুটে উঠল আরব সাগরের পাড়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোয়ায় কংগ্রেসের ঘর যাতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে না পড়ে তাই এই পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপির সরকার আমলে কংগ্রেসের ১৭ জন বিধায়কের মধ্য়ে ১৫ জন কংগ্রেস ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে বিধানসভায় কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ২ জন। সেখানে বিজেপির হাতে আছে ২৭ জন বিধায়ক। শনিবার দলের টুইটারে শেয়ার করা ছবি এবং ভিডিয়োতে গোয়া জুড়ে কংগ্রেস প্রার্থীদের মহালক্ষ্মী মন্দির, বাম্বোলিম ক্রস এবং হামজা শাহ দরগায় যেতে দেখা গিয়েছে। পানাজির মহালক্ষ্মী মন্দিরের পুরোহিতরা এবং কোঙ্কানির বাম্বোলিম ক্রসের ফাদার কংগ্রেস প্রার্থীদের দিয়ে শপথ করান। কংগ্রেস প্রার্থীরা বিভিন্ন ধর্মস্থানে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তাঁরা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরে কমপক্ষে পাঁচ বছর কংগ্রেসে থাকবেন। প্রার্থীরা পরে বেতিমের একটি মসজিদে ‘চাদর’ দেন। পি চিদাম্বরম, সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির গোয়ার ইনচার্জ দীনেশ গুন্ডু রাও, গোয়া প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রধান গিরিশ চোদনকর সহ কংগ্রেসের বরিষ্ঠ নেতারা ৩৪ জন প্রার্থীর সাথে বিভিন্ন ধর্মস্থানে গিয়েছিলেন।
মিঃ চোদনকার বলেছেন, “মানুষের মনে আস্থা তৈরি করার জন্য, প্রার্থীদের ঈশ্বরের সামনে শপথ নেওয়ার অনুশীলন করা হয়েছিল।” বিধানসভায় কংগ্রেসের দলনেতা দিগম্বর কামাত বলেছেন, “আমরা জনসাধারণের মন থেকে যেকোনও সন্দেহ দূর করার চেষ্টা করেছি। কংগ্রেস জনগণের উপলব্ধিকে গুরুত্ব দেয়। রাজনৈতিক দলগুলি আমাদের বিধায়কদের ভাঙিয়ে নিচ্ছে… যে দলগুলি টাকার অফার দিচ্ছে এবং আমাদের বিধায়কদের কিনছে তাদের প্রতি আমাদের আরও আক্রমণাত্মক হতে হবে,”
গত নির্বাচনের পর থেকে কংগ্রেস ছেড়ে বহু বিধায়ক অন্য দলে যোগ দিয়েছে। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে ১৭ টি আসন জিতে কংগ্রেস একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিধানসভায় নিজের জায়গা করে নিয়েছিল। এখন তাদের ঘরেই মাত্র দু’জন বিধায়ক পড়ে আছে। ২০১৯ সালে, ১০ জন কংগ্রেস বিধায়ক ক্ষমতাসীন বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাই ২০২২ নির্বাচনের আগে কোনও সুযোগ নিতে চায় না কংগ্রেস। তাই আগেভাগে ধর্মীয় স্থানে গিয়ে প্রার্থীদের দিয়ে শপথ করিয়ে নিচ্ছে দল। উল্লেখ্য, ১৪ ফেব্রুয়ারি গোয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হবে ১০ মার্চ।
আরও পড়ুন : Uttar Pradesh Assembly Election : ‘কংগ্রেস কেবল বিজেপি বিরোধী ভোট কাটাকাটি করবে…’ প্রিয়াঙ্কাকে তোপ মায়াবতীর