
পানাজি: একের পর এক রাজ্যে কংগ্রেসে(Congress) ভাঙন ধরিয়েই জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস(TMC)। এবার ঘাসফুলের চালেই বাজিমাত করতে মাঠে নামলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টি(Goa Forward Party)-র সুপ্রিমো বিজয় সরদেশাই(Vijay Sardesai)-দের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে ছবি পোস্ট করে দুই দলের মধ্যে জোটকে এক প্রকার নিশ্চিতই করে দিলেন রাহুল। সম্প্রতিই বিজয় সরদেশাই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)-কে সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং নতুন দলে যোগ দেওয়ার আগ্রহও দেখিয়েছিলেন তিনি।
মঙ্গলবারই দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টির সুপ্রিমো বিজয় সরদেশাই। সেখানেই রাহুলের সঙ্গে একটি গ্রুপ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লেখেন, “টিম গোয়া”। দুই দলের তরফেই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা না করা হলেও, কংগ্রেস নেতা তথা গোয়ার ইনচার্জ দীনেশ গুন্ডু রাও জানান, সরদেশাই ও গোয়ার বিধায়ক বিনোদ পালিয়েনকার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছেন এবং দুর্নীতিগ্রস্থ বিজেপির হাত থেকে গোয়াকে রক্ষা করতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
নির্দল বিধায়ক প্রসাদ গাওনকর, যিনি কয়েক সপ্তাহ আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই যোগ দেবেন বলে জানিয়েছিলেন, তিনিও মঙ্গলবার কংগ্রেস নেতার সঙ্গেই দেখা করেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি তৃণমূল নয়, কংগ্রেসকেই সমর্থন জানাবেন, এ কথাও স্পষ্টতই বুঝিয়ে দিয়েছেন।
গোয়া ফরওয়ার্ড দলের নেতা বিজয় সরদেশাই “জোট” কথাটি উল্লেখ না করলেও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি টুইটে লেখেন, “প্রসাদ গাওনকর ও বিনোদ পালিয়েকরের সঙ্গে আমরা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলাম। গোয়ার মানুষদের স্বার্থে, অযোগ্য ও অগণতান্ত্রিক বিজেপির বিরুদ্ধে আমরা একজোট হয়ে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি আরও লেখেন, “বিজেপির অধীনে গোয়া পরিচালন অসম্ভব। সেই কারণেউই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলাম। ওনার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে গর্বিত। সাম্প্রদায়িক ও গোয়া বিরোধী প্রমোদ সাওয়ান্তের সরকারের অভিশাপ থেকে এবার মুক্তি মিলবে।”
দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাধার আগ্রহ দেখালেও, সম্প্রতিই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিজয় সরদেশাই। সেই সময় তৃণমূলের সঙ্গে মিলিত হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাকও দিয়েছিলেন তিনি। গত ১২ অক্টোবরই তিনি তৃণমূলের স্লোগান ধরে বলেছিলেন, “গোয়া নতুন সূর্যোদয়ের জন্য প্রস্তুত।” বিজেপিকে হারাতে তিনি যে কোনও কিছু ত্যাগ করতে রাজি বলে জানিয়েছিলেন, কিন্তু মাস ঘোরার আগেই বদলে গেল সেই প্রতিশ্রুতি।
অন্যদিকে, প্রসাদ গাওনকারের ভাইও গত ১৩ অক্টোবর তৃণমূলে যোগ দেন। পদের মেয়াদ শেষ হলে তিনি নিজেও সমর্থক ও পঞ্চায়েত সদস্যদের নিয়ে তৃণমূলে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। গতকাল রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একাধিক গোয়ার নেতার সাক্ষাতের পর ফের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।