ডুবন্ত সিনেমার কেরিয়ার, টিকে থাকতে নতুন কী করলেন অভিষেক বচ্চন?
নিয়মিত সেই সস ব্যবহার করতে করতে তিনি এর গুণমানে এতটাই মুগ্ধ হন যে সরাসরি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিষেক নিজেই প্রস্তাব দেন, "আমি কি আপনাদের এই উদ্যোগের অংশ হতে পারি?" অভিনেতার সেই জহুরির চোখ ভুল ছিল না। ২০২২ সালেই সেই সংস্থা ১০ লক্ষ মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যবসা করে নজর কেড়েছে।

বলিউডে সেভাবে সফল নন, অভিষেক বচ্চন। দুরন্ত অভিনেতা হয়েও, বক্স অফিসে তাঁর অস্তিত্ব বেশ দুর্বল। মাঝে মধ্যেই এই কারণেই তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তবে এবার সিনেমা নয়, বরং নিজেকে টিকিয়ে রাখতে নতুন সিদ্ধান্ত নিলেন অভিষেক। কী করলেন জুনিয়ার বচ্চন?
গ্ল্যামার দুনিয়ার পাশাপাশি ব্যবসার অলিন্দেও যে অভিষেক বচ্চন একজন দক্ষ খেলোয়াড়, তা আর অজানা নয়। কোনও হুজুগে পড়ে নয়, বরং অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে গত কয়েক বছরে নিজেকে একজন সফল উদ্যোগপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। সম্প্রতি ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল বিজ়নেস সামিট’-এ নিজের সেই ব্যবসায়িক সফরের এক চমকপ্রদ কাহিনী শুনিয়েছেন জুনিয়র বচ্চন।
অভিষেকের বিনিয়োগের ধরণটা পাঁচজন পেশাদার বিনিয়োগকারীর চেয়ে আলাদা। তিনি কোনও সংস্থার ব্যালেন্স শিট দেখার আগে দেখেন নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। সামিটে অভিষেক জানান, তাঁর এই যাত্রার অন্যতম কাণ্ডারি হল ‘ঝাল খাবার’-এর প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা।
২০১৯ সালে এক বিশেষ ব্র্যান্ডের ঝাল সসের প্রেমে পড়েন অভিনেতা। নিয়মিত সেই সস ব্যবহার করতে করতে তিনি এর গুণমানে এতটাই মুগ্ধ হন যে সরাসরি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিষেক নিজেই প্রস্তাব দেন, “আমি কি আপনাদের এই উদ্যোগের অংশ হতে পারি?” অভিনেতার সেই জহুরির চোখ ভুল ছিল না। ২০২২ সালেই সেই সংস্থা ১০ লক্ষ মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যবসা করে নজর কেড়েছে।
অভিষেকের ডিকশনারিতে বিনিয়োগ মানে কেবল টাকা খাটানো নয়, বরং সমস্যার সমাধান খোঁজা। একবার বাড়িতে সেই প্রিয় সস ফুরিয়ে যাওয়ায় কোথাও তা খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। অগত্যা একটি ফুড ডেলিভারি অ্যাপের সাহায্য নিতে হয়। সেই মুহূর্তেই তাঁর মাথায় খেলে যায় নতুন আইডিয়া— যে পরিষেবা তাঁর মতো সাধারণ গ্রাহকের মুশকিল আসান করছে, তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। দেরি না করে সেই ডেলিভারি সংস্থাতেও বড়সড় বিনিয়োগ করেন তিনি।
অভিষেক বচ্চনের ব্যবসায়িক ঝুলি কিন্তু কেবল খাবার বা অ্যাপেই সীমাবদ্ধ নয়:
ক্রীড়া জগৎ: ফুটবল থেকে কবাডি— একাধিক স্পোর্টস টিমে তাঁর বিনিয়োগ আজ সর্বজনবিদিত।
আবাসন শিল্প (Real Estate): মায়ানগরী মুম্বইয়ের রিয়্যাল এস্টেট বাজারেও তিনি এক বড় নাম। হিসাব বলছে, মুম্বই জুড়ে তাঁর রিয়্যাল এস্টেট লগ্নির পরিমাণ প্রায় ২১৯ কোটি টাকা।
উদ্যোগপতির বার্তা: অভিষেকের এই সফর প্রমাণ করে যে, সফল ব্যবসার চাবিকাঠি কেবল খাতা-কলমের হিসেবে নেই, তা লুকিয়ে আছে গ্রাহক হিসেবে নিজের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঠিক মূল্যায়নে।
